
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জনপ্রিয় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হানের বদলির আদেশ ঘিরে জেলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বদলির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থলে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে গোটা জেলা। অভিভাবক, সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণির মানুষ বলছেন, “জনবান্ধব ও দক্ষ এই চিকিৎসককে হারালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেলার শিশুস্বাস্থ্যসেবা।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, বদলির খবর প্রকাশের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে তাঁর বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। বক্তারা বলেন, ডা. মাহফুজ রায়হান কেবল একজন সরকারি চিকিৎসক নন, তিনি অসংখ্য শিশুর জীবনরক্ষাকারী এবং অভিভাবকদের কাছে নির্ভরতার প্রতীক।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকরা বলেন, রাত-দিন, ছুটির দিন কিংবা সংকটের সময়—সবসময় রোগীদের পাশে থেকেছেন ডা. মাহফুজ রায়হান। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তাঁর মানবিক আচরণ এবং রোগী ও স্বজনদের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, করোনা মহামারি এবং পরবর্তী সময়ে হাম (মিজলস) সংক্রমণের সময় তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে জেলার শিশুস্বাস্থ্য খাতকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কঠিন সময়ে হাসপাতাল ও রোগীদের পাশে থেকে তাঁর নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞের সংখ্যা সীমিত। এমন বাস্তবতায় একজন অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় চিকিৎসকের বদলি জেলার চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ডা. মাহফুজ রায়হানকে বর্তমান কর্মস্থলে বহাল রাখার দাবিতে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। অনেকেই লিখছেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি—ডা. মাহফুজ রায়হানকে বদলি নয়, বহাল রাখা হোক।” কেউ কেউ বলছেন, একজন চিকিৎসকের জনপ্রিয়তা তাঁর কর্মদক্ষতা ও মানবিকতারই স্বীকৃতি।
মানববন্ধনের বক্তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনস্বার্থ, জেলার শিশুস্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এদিকে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, শিশুস্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা, জনআস্থা এবং চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 






















