ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
নাটোরে দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি থেকে ৩৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ মামুন খালেদসহ স্ত্রী-শ্যালকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ লাখ টাকার বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, কেডিএর ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ শাহজাদপুরে নার্সিং ও ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সিলেট সীমান্তে ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনে পার্বতীপুরে পৌঁছাল ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল কক্সবাজারে চোরাই স্বর্ণালংকার ও মোবাইলসহ গৃহকর্মী গ্রেপ্তার লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৬৮ বাংলাদেশি

‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’—স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্য

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যেখানে সাংবাদিককে ‘স্যার’ সম্বোধনের দাবি তোলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় তথ্য সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ সম্বোধন করার দাবি জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনের সময় একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি সামিউল ইসলাম আরিফের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। কাজের প্রয়োজনে তথ্য ও বক্তব্য নিতে ওই সাংবাদিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাকে দাপ্তরিক শিষ্টাচার তথা ‘অফিস ডেকোরাম’ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ভাষ্যমতে, ওই কর্মকর্তা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদমর্যাদা একই স্তরের। তাই ইউএনওকে যেভাবে সম্মানসূচক সম্বোধন করা হয়, একইভাবে তাকেও সম্বোধন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক সামিউল ইসলাম আরিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকে কাউকে সম্মান জানানো এক বিষয়, কিন্তু তথ্য দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট সম্বোধন দাবি করা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেন।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন হাকিমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলনও। তার মতে, সরকারি কর্মকর্তাকে সম্মান দেখানো দায়িত্বের অংশ হলেও কোনো নির্দিষ্ট সম্বোধন জোরপূর্বক আরোপ করা সমীচীন নয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ ডাকার বাধ্যবাধকতা সরকারিভাবে নেই। কাকে কীভাবে সম্বোধন করা হবে, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রুচির বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি থেকে ৩৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’—স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্য

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৪৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় তথ্য সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ সম্বোধন করার দাবি জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনের সময় একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি সামিউল ইসলাম আরিফের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। কাজের প্রয়োজনে তথ্য ও বক্তব্য নিতে ওই সাংবাদিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাকে দাপ্তরিক শিষ্টাচার তথা ‘অফিস ডেকোরাম’ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ভাষ্যমতে, ওই কর্মকর্তা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদমর্যাদা একই স্তরের। তাই ইউএনওকে যেভাবে সম্মানসূচক সম্বোধন করা হয়, একইভাবে তাকেও সম্বোধন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক সামিউল ইসলাম আরিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকে কাউকে সম্মান জানানো এক বিষয়, কিন্তু তথ্য দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট সম্বোধন দাবি করা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেন।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন হাকিমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলনও। তার মতে, সরকারি কর্মকর্তাকে সম্মান দেখানো দায়িত্বের অংশ হলেও কোনো নির্দিষ্ট সম্বোধন জোরপূর্বক আরোপ করা সমীচীন নয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ ডাকার বাধ্যবাধকতা সরকারিভাবে নেই। কাকে কীভাবে সম্বোধন করা হবে, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রুচির বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।