ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা নিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের আইমান কানিতা বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ পেল উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদের সম্মাননা তানোরের আলোচিত মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও চারঘাটের শিশুর ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবি ইবির শহীদ আবরার ফাহাদ হলে আসন পেল না থিওলজি অনুষদের শিক্ষার্থীরা ভালুকার ১৩ বছর আগের আলোচিত মিন্টু হত্যা মামলার রায় নাচোল থানায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাবি উপাচার্যের সঙ্গে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের মতবিনিময় সভা আরএমপি কমিশনােরর সাথে সাংবাদিক নেতা মাখনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পানি সম্পদবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন এমপি মিলন

ইবির শহীদ আবরার ফাহাদ হলে আসন পেল না থিওলজি অনুষদের শিক্ষার্থীরা

  • ইবি প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ১২৩৩ Time View

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হল; নতুন আবাসন বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমকে ঘিরে আবাসন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা। নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হলে নবীনদের জন্য আসন বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্বতন্ত্র ‘ডি’ ইউনিটের তিনটি বিভাগ এবং কলা অনুষদের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার বাইরে থাকায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ডি’ ইউনিটের অধীন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ এবং কলা অনুষদের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রায় ৩৩০ শিক্ষার্থীর প্রথম মেধাতালিকার ভর্তি কার্যক্রম গত ১০ থেকে ১২ মে সম্পন্ন হয়। সে সময় তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো আটটি আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত ৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হলের একটি ব্লকে প্রায় ৪০০ নবীন শিক্ষার্থীর আবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ৮ থেকে ১৬ জুলাইয়ের ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে নতুন হলসহ মোট নয়টি হলে আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু আগেই ভর্তি সম্পন্ন হওয়ায় ‘ডি’ ইউনিটের শিক্ষার্থীরা নতুন হলের বরাদ্দ থেকে বাদ পড়ে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তি হওয়ার সময় নতুন হলের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় তাদের সেখানে আসন দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্য বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা একই হলে আবাসন পাওয়ায় তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। তাদের দাবি, সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে নতুন হলেও তাদের আসন বরাদ্দ দেওয়া হোক।

ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকেন্দার আলী বলেন, ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তের আগেই শেষ হয়েছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন জানান, ধর্মতত্ত্ব অনুষদের তিনটি বিভাগ ও আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম আগে সম্পন্ন হওয়ায় তারা নতুন হলে আসন বরাদ্দ পায়নি। তবে বিষয়টি প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মতিনুর রহমান জানান, স্বতন্ত্র ‘ডি’ ইউনিটের চারটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিকভাবে শহীদ আবরার ফাহাদ হলে ১০০টি আসন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অন্য হলে আবাসনের ফি জমা দিয়েছেন, সেই অর্থ যাতে নতুন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা যায়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে নতুন শিক্ষাবর্ষে আবাসনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার অবসান হবে এবং সব বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য সমতা নিশ্চিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা নিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের আইমান কানিতা

ইবির শহীদ আবরার ফাহাদ হলে আসন পেল না থিওলজি অনুষদের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমকে ঘিরে আবাসন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা। নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হলে নবীনদের জন্য আসন বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্বতন্ত্র ‘ডি’ ইউনিটের তিনটি বিভাগ এবং কলা অনুষদের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার বাইরে থাকায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ডি’ ইউনিটের অধীন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ এবং কলা অনুষদের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রায় ৩৩০ শিক্ষার্থীর প্রথম মেধাতালিকার ভর্তি কার্যক্রম গত ১০ থেকে ১২ মে সম্পন্ন হয়। সে সময় তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো আটটি আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত ৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হলের একটি ব্লকে প্রায় ৪০০ নবীন শিক্ষার্থীর আবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ৮ থেকে ১৬ জুলাইয়ের ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে নতুন হলসহ মোট নয়টি হলে আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু আগেই ভর্তি সম্পন্ন হওয়ায় ‘ডি’ ইউনিটের শিক্ষার্থীরা নতুন হলের বরাদ্দ থেকে বাদ পড়ে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তি হওয়ার সময় নতুন হলের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় তাদের সেখানে আসন দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্য বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা একই হলে আবাসন পাওয়ায় তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। তাদের দাবি, সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে নতুন হলেও তাদের আসন বরাদ্দ দেওয়া হোক।

ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকেন্দার আলী বলেন, ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তের আগেই শেষ হয়েছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন জানান, ধর্মতত্ত্ব অনুষদের তিনটি বিভাগ ও আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম আগে সম্পন্ন হওয়ায় তারা নতুন হলে আসন বরাদ্দ পায়নি। তবে বিষয়টি প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মতিনুর রহমান জানান, স্বতন্ত্র ‘ডি’ ইউনিটের চারটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিকভাবে শহীদ আবরার ফাহাদ হলে ১০০টি আসন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অন্য হলে আবাসনের ফি জমা দিয়েছেন, সেই অর্থ যাতে নতুন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা যায়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে নতুন শিক্ষাবর্ষে আবাসনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার অবসান হবে এবং সব বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য সমতা নিশ্চিত হবে।