
দীর্ঘ ১৩ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ময়মনসিংহের ভালুকায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত আলোচিত আবুল জাকারিয়া মিন্টু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে উপস্থিত আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তবে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেওয়া হয়।
আদালতের রায় অনুযায়ী, মো. ফরিদ খলিফা এবং পলাতক মো. মাসুদ মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে দণ্ড কার্যকরের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই মামলায় আ. মতিন, আব্দুস ছামাদ, ছমেদ আলী, মো. মোসারফ হোসেন, মো. মোফাজ্জল হোসেন, মো. তোফাজ্জল হোসেন, মো. নাজমুল মিয়া, মো. মোকলেছুর রহমান, মো. শাহজাহান আকন্দ, মো. আতিকুল এবং পলাতক মো. সিদ্দিক মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন।
রায়ে আদালত আরও নির্দেশ দেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজতবাসের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী সাজাভোগের মেয়াদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আদালতে উপস্থিত দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বে জারি করা কনভিকশন ওয়ারেন্ট (সি.ডব্লিউ.) প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়।
পলাতক দুই আসামির বিষয়ে আদালত বলেন, তারা আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির দণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার নথি আইন অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকালে ভালুকা উপজেলার নিজ মালিকানাধীন জমি দেখতে গেলে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন আবুল জাকারিয়া মিন্টু। ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই অথবা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পরদিন, ১৫ আগস্ট ২০১৩ সালে নিহতের স্ত্রী লতিফা বেগম বাদী হয়ে ভালুকা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষে অবশেষে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
শফিয়েল আলম সুমন ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 
























