ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাতের মধ্যে দেশের ১৮ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা ময়মনসিংহে ভাড়া বাসায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ দুই মাস বন্ধ থাকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফের শুরু স্বল্পমূল্যের চাল বিতরণ নাটোরে মাদ্রাসায় অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হলেও অক্ষত রইল ২৫টি কোরআন শরিফ রাজশাহীর পবায় অনুমোদনহীন ২ বেকারিকে বিএসটিআই’র জরিমানা রিকশাচালককে মারধর ও ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার ইবি ছাত্রশক্তির নতুন কমিটি ঘোষণা, আহ্বায়ক ফুয়াদ, সদস্যসচিব ইফতেহার বেরোবিতে বর্ণিল আয়োজনে উদ্বোধন হলো শহিদ আবু সাঈদ আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট হড়মা উচ্চ বিদ্যালয়ের আধুনিক একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন পুঠিয়ার পাইকপাড়া ভূমি অফিসে ঘুষ-বাণিজ্য! দালাল ছাড়া মিলে না সেবা

পুঠিয়ার পাইকপাড়া ভূমি অফিসে ঘুষ-বাণিজ্য! দালাল ছাড়া মিলে না সেবা

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, যেখানে দুর্নীতি ও দালালচক্রের অভিযোগ উঠেছে

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সরকারি খাস জমি দখলে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সুফি এবরার আহমেদ বকসীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্রয়ে একটি প্রভাবশালী দালাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা হয়রানি, ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি ফি পরিশোধ করেও সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। অথচ দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে একই কাজ কয়েক ঘণ্টা কিংবা অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। এতে ভূমি অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অফিস চলাকালীন সময়েই তহশিলদারের উপস্থিতিতে আফান এবং দলিল লেখক তাহের আলী নামে দুই বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র ও রেকর্ডপত্র ঘাঁটাঘাটি করছেন। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব নথি কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যবহারের কথা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে প্রবেশের পর সাধারণ মানুষকে প্রথমেই দালালদের মুখোমুখি হতে হয়। তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন।

ভুক্তভোগী সারোয়ার হোসেন জিম ও আব্দুল মালেক অভিযোগ করে বলেন,”এই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবামূলক কাজ হয় না। সরকারি ফি দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে কাজ আটকে রাখা হয়। পরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যায়।”

তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, হোল্ডিং খোলা, জমির তথ্য সংগ্রহ, নামজারি (মিউটেশন)-সহ বিভিন্ন কাজে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই অনৈতিক অর্থ লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতেও পৌঁছেছে।

আরেক ভুক্তভোগী কালাম হোসেন জানান, জমি কেনার আগে তথ্য যাচাইয়ের জন্য তিনি ভূমি অফিসে গেলে অফিস সহায়ক রহিমা খাতুন ও রতন কুমার রাম তার কাছে সরাসরি এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন,”টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোনো তথ্য দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।”

অনলাইনে নামজারির আবেদন জমা পড়ার পর প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিসের। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়াকেই একটি লাভজনক বাণিজ্যে পরিণত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, জাকির হোসেন নামে এক বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিটি নামজারির জন্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জাকির হোসেন ভূমি অফিসের কোনো বৈধ কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। তারপরও প্রতিদিন অফিসে অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে কাজ করছেন এবং নিজেকে “উন্নয়ন খাতে কর্মরত” পরিচয় দিয়ে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুফি এবরার আহমেদ বকসী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।তবে অফিসে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”আমার অফিসে দুজন সহকারী রয়েছে। তাদের ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।”

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তহশিলদার সুফি এবরারের বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার ধোপাপাড়া মৌজা (জে.এল. নং-৩৯)-এর ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ২৮০১, ২৮০২, ২৮০৩, ২৮০৪, ২৮০৫, ২৮০৬, ২৮১০, ২৭২৭ ও ২৭৩০ নম্বর দাগে প্রায় ২৫ বিঘা (৮.২৭ একর) সরকারি ধানী জমি রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের সুবিধার বিনিময়ে মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে শাহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুর রহমানকে ওই জমির একচ্ছত্র দখল নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে পুকুর খনন করে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদ বকসী রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন, যা প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এ দাবির স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সরকারি নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুফি এবরার আহমেদ বকসীর অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হওয়ার পরে তাঁকে পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে বাগমারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলী করা হয়েছে। এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান।

পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সরকারি ভূমি সেবা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও নষ্ট হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাতের মধ্যে দেশের ১৮ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা

পুঠিয়ার পাইকপাড়া ভূমি অফিসে ঘুষ-বাণিজ্য! দালাল ছাড়া মিলে না সেবা

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সরকারি খাস জমি দখলে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সুফি এবরার আহমেদ বকসীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্রয়ে একটি প্রভাবশালী দালাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা হয়রানি, ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি ফি পরিশোধ করেও সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। অথচ দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে একই কাজ কয়েক ঘণ্টা কিংবা অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। এতে ভূমি অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অফিস চলাকালীন সময়েই তহশিলদারের উপস্থিতিতে আফান এবং দলিল লেখক তাহের আলী নামে দুই বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র ও রেকর্ডপত্র ঘাঁটাঘাটি করছেন। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব নথি কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যবহারের কথা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে প্রবেশের পর সাধারণ মানুষকে প্রথমেই দালালদের মুখোমুখি হতে হয়। তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন।

ভুক্তভোগী সারোয়ার হোসেন জিম ও আব্দুল মালেক অভিযোগ করে বলেন,”এই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবামূলক কাজ হয় না। সরকারি ফি দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে কাজ আটকে রাখা হয়। পরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যায়।”

তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, হোল্ডিং খোলা, জমির তথ্য সংগ্রহ, নামজারি (মিউটেশন)-সহ বিভিন্ন কাজে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই অনৈতিক অর্থ লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতেও পৌঁছেছে।

আরেক ভুক্তভোগী কালাম হোসেন জানান, জমি কেনার আগে তথ্য যাচাইয়ের জন্য তিনি ভূমি অফিসে গেলে অফিস সহায়ক রহিমা খাতুন ও রতন কুমার রাম তার কাছে সরাসরি এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন,”টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোনো তথ্য দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।”

অনলাইনে নামজারির আবেদন জমা পড়ার পর প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিসের। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়াকেই একটি লাভজনক বাণিজ্যে পরিণত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, জাকির হোসেন নামে এক বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিটি নামজারির জন্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জাকির হোসেন ভূমি অফিসের কোনো বৈধ কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। তারপরও প্রতিদিন অফিসে অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে কাজ করছেন এবং নিজেকে “উন্নয়ন খাতে কর্মরত” পরিচয় দিয়ে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুফি এবরার আহমেদ বকসী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।তবে অফিসে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”আমার অফিসে দুজন সহকারী রয়েছে। তাদের ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।”

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তহশিলদার সুফি এবরারের বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার ধোপাপাড়া মৌজা (জে.এল. নং-৩৯)-এর ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ২৮০১, ২৮০২, ২৮০৩, ২৮০৪, ২৮০৫, ২৮০৬, ২৮১০, ২৭২৭ ও ২৭৩০ নম্বর দাগে প্রায় ২৫ বিঘা (৮.২৭ একর) সরকারি ধানী জমি রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের সুবিধার বিনিময়ে মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে শাহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুর রহমানকে ওই জমির একচ্ছত্র দখল নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে পুকুর খনন করে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদ বকসী রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন, যা প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এ দাবির স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সরকারি নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুফি এবরার আহমেদ বকসীর অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হওয়ার পরে তাঁকে পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে বাগমারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলী করা হয়েছে। এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান।

পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সরকারি ভূমি সেবা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও নষ্ট হবে।