
দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বল্পমূল্যের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবাস এবং পরবর্তীতে জামিনে মুক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ থাকা এই কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগী হাজারো পরিবার।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের জাবড়ী গ্রামে দিনব্যাপী ১ হাজার ৫৫০টি পরিবারের মধ্যে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সকাল থেকেই চাল সংগ্রহে উপকারভোগীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্সের ম্যানেজার কামরুল হাসান মিদুল জানান, গত দুই মাস নানা জটিলতার কারণে চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে যেসব পরিবার ওই সময় চাল পাননি, তাদের বকেয়া চালও পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত ২৩ জুন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জেসমিন বেগম এবং ম্যানেজার কামরুল হাসান মিদুল জামিনে কারামুক্ত হন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নারী-পুরুষ তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সেই সময় তারা পুনরায় ১৭ হাজার সুবিধাভোগী পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম চালু করার ঘোষণা দেন। ঘোষণার পর উপকারভোগীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়।
জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়ের করা একটি মামলার ভিত্তিতে পুলিশ প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জেসমিন বেগম এবং তার সহযোগী মেহেদী হাসান মিদুলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে এবং চাল বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০২২ সাল থেকে নির্দিষ্ট সদস্য কার্ডের মাধ্যমে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও খেটে-খাওয়া মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে চাল বিক্রির উদ্যোগ পরিচালিত হয়ে আসছে। এ কর্মসূচির আওতায় কয়েক হাজার পরিবার নিয়মিতভাবে খাদ্য সহায়তা পেয়ে আসছিল।
দীর্ঘ বিরতির পর আবার চাল বিতরণ শুরু হওয়ায় অনেক সুবিধাভোগী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বকেয়া চালও তারা পাবেন।
তবে উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন হিসেবেই বিবেচিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 


















