
গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ৫ শতাংশ বিলম্বিত পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ শ্রমিক আন্দোলনে বাধা, গ্রেপ্তার এবং হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদও জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঐক্য পরিষদের নেতারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় ১৬ বছর ধরে গ্রামীণফোনের হাজারো সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের আইনগতভাবে প্রাপ্য ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
তাদের দাবি, ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোকে Industrial Undertaking হিসেবে ঘোষণা করার পর শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মচারীরা Workers Profit Participation Fund (WPPF) এবং Workers Welfare Fund (WWF)-এর আওতায় মুনাফাভিত্তিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার অর্জন করেন।
বক্তাদের অভিযোগ, সরকারি গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণফোন আদালতে রিট দায়ের করায় দীর্ঘ সময় ধরে কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ আটকে থাকে। পরে ২০২৩ সালের ৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানটি রিট প্রত্যাহার করলেও বিলম্বের কারণে সৃষ্ট পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, বিলম্বজনিত পাওনার মোট পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা, যা প্রায় ৪ হাজার সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের আইনগত দাবি।
বক্তাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ঢাকার গ্রামীণফোন প্রধান কার্যালয়ের সামনে তারা শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এ সময়ে প্রতীকী প্রতিবাদসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো সংলাপ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া, গত ৩০ জুন-এর ঘটনাকে শ্রমিক আন্দোলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করে বক্তারা দাবি করেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির আগে কয়েকজন সাবেক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়। মানববন্ধন থেকে এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা চারটি দাবি উত্থাপন করেন-গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ।শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ।প্রাপ্য অর্থ নিষ্পত্তির আগে আইন অনুযায়ী কোম্পানির আর্থিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।গ্রামীণফোনকে আরও গ্রাহকবান্ধব, শ্রমিকবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরাদ হোসেন, সুফিনাজ বাসিতা নীতু, শাহরিয়ার মতিন, একরামুজ্জামান, জান্নাতুল ফেরদৌস, মোহাম্মদ আসিফ হোসেন, সামী উদ্দিন, আতাউস সালাম, মহিবুল হাসানসহ আরও অনেকে।
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 
























