
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অবস্থিত সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) ও যুগ্ম সচিব মো. সাজেদুর রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি বন্দরটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। নৌবন্দরে পৌঁছালে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ফুলেল শুভেচ্ছায় তাঁকে স্বাগত জানান। পরে তিনি বন্দরের অফিস কক্ষ, পণ্য খালাসের জায়গা এবং নদীপথের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন সম্পন্ন করে মো. সাজেদুর রহমান জানান, একটি নৌবন্দর চালু করতে যেসব পূর্বশর্ত প্রয়োজন, তার সবকটিই এই বন্দরে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে উঠেছে। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং যথাশীঘ্র বন্দর চালুর সুপারিশ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন কেবল এনবিআরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বন্দরটি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই সেই অনুমোদন মিলবে।
পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীরা নিজস্ব অর্থায়নে বন্দরের অবকাঠামো উন্নত করেছেন এবং পণ্যবাহী জাহাজও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বন্দর চালু না থাকায় পণ্য আটকে থাকছে এবং আর্থিক ক্ষতি ক্রমশ বাড়ছে। তিনি আরও জানান, ভারত থেকে পাথর এখন সড়ক ও রেলপথে আমদানি করতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। নৌপথে পরিবহন চালু হলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বর্ষায় দুই থেকে আড়াই হাজার টন এবং শুষ্ক মৌসুমে ৭০০ থেকে ৮০০ টন ধারণক্ষমতার কার্গো জাহাজ এই পথে চলাচল করতে পারবে।
৫৯ বছর পর পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ, তবুও ঝুলে আছে বন্দর
জানা গেছে, প্রায় ছয় দশক আগে সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান পর্যন্ত নৌপথে নিয়মিত বাণিজ্য পরিচালিত হতো। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধসহ নানা কারণে ওই নৌপথ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৫৯ বছর পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নৌবন্দরটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন মাত্র দশ দিন কার্যক্রম চলার পর আবারও বন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই সংক্ষিপ্ত সময়ে পাঁচটি নৌযানের মাধ্যমে পাথর ও গার্মেন্টস শিল্পের ঝুট আমদানি-রপ্তানি হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বন্দরটি পরিদর্শন করে অবকাঠামো উন্নয়ন শেষে দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। তবে বহু সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি।
আমদানি-রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, ড্রেজিং ও অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড এবং এনবিআরের উদাসীনতার কারণে বন্দর চালু হচ্ছে না। ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, প্রশাসনিক সদিচ্ছার ঘাটতিই এই বিলম্বের মূল কারণ।
চালু হলে অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে
সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। এই নৌপথ সচল হলে ভারত থেকে সিমেন্টের কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সহজে আমদানি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ কৃষিপণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌপথ চালু হলে পরিবহন খরচ ও সময় দুটোই কমবে, যা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 
























