ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলনের গণমিছিল ও সমাবেশ সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালে ভয়াবহ বজ্রাঘাতে মাঠেই ফুটবলারের মৃত্যু ‘ডিসেম্বরে দেশে এলে রাজপথেই দেখা হবে’- ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে আবারও ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান হতে পারে-ইবি উপাচার্য সিঙ্গেল মায়েদের স্বাবলম্বিতা ও বিহারী শিশুদের শিক্ষায় অনন্য সামাজিক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের রাজপথের সংঘাতের প্রভাব শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না মায়ের উদ্দেশে শেষ চিঠি লিখেই আন্দোলনে যান আনাস

‘জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়লেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়িত হবে’-তথ্যমন্ত্রী

বুয়েটে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে বাংলাদেশে একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করাই যথেষ্ট নয়; বরং যে কারণগুলো মানুষকে আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছিল, সেগুলোর স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই হবে প্রকৃত দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার আগে ও পরে বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুবার আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এটি প্রমাণ করে, দীর্ঘ সময়েও একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিটি প্রজন্মকে কোনো না কোনোভাবে গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নতুন করে সংগ্রাম করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদদের স্মরণ বা তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নিয়ে গর্ব করাই যথেষ্ট নয়। বরং কেন রাষ্ট্র বারবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর সমাধান বের করা প্রয়োজন।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে কেবল আবেগের বিষয় হিসেবে নয়, রাষ্ট্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের জন্য একই ধরনের আন্দোলনের প্রয়োজন না পড়ে।

তিনি রাষ্ট্রের মেধাবী নাগরিকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষ্য, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মেধাবী মানুষ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্র ও সমাজে অবদান রাখার সুযোগ পান না। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হওয়া উচিত।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান—এ কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আত্মত্যাগের পরও যদি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আর্থ-সামাজিক কাঠামো নিয়ে আরও গভীর গবেষণা এবং আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে শুধু আবেগ দিয়ে নয়, গবেষণা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। এতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন বুয়েটের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী এবং পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

‘জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়লেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়িত হবে’-তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে বাংলাদেশে একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করাই যথেষ্ট নয়; বরং যে কারণগুলো মানুষকে আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছিল, সেগুলোর স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই হবে প্রকৃত দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার আগে ও পরে বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুবার আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এটি প্রমাণ করে, দীর্ঘ সময়েও একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিটি প্রজন্মকে কোনো না কোনোভাবে গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নতুন করে সংগ্রাম করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদদের স্মরণ বা তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নিয়ে গর্ব করাই যথেষ্ট নয়। বরং কেন রাষ্ট্র বারবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর সমাধান বের করা প্রয়োজন।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে কেবল আবেগের বিষয় হিসেবে নয়, রাষ্ট্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের জন্য একই ধরনের আন্দোলনের প্রয়োজন না পড়ে।

তিনি রাষ্ট্রের মেধাবী নাগরিকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষ্য, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মেধাবী মানুষ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্র ও সমাজে অবদান রাখার সুযোগ পান না। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হওয়া উচিত।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান—এ কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আত্মত্যাগের পরও যদি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আর্থ-সামাজিক কাঠামো নিয়ে আরও গভীর গবেষণা এবং আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে শুধু আবেগ দিয়ে নয়, গবেষণা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। এতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন বুয়েটের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী এবং পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল।