
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির প্রস্তুতির মধ্যেই রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে ‘৫ আগস্ট জাতীয় পুলিশ হত্যা দিবস’ শিরোনামের পোস্টার দেখা গেছে। এসব পোস্টার ঘিরে নগরজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পোস্টারগুলোতে ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’ স্লোগানের পাশাপাশি কয়েকটি সহিংস ঘটনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালনের প্রস্তুতি চলছে। এ উপলক্ষে সরকার, প্রশাসন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
এরই মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একই ধরনের পোস্টার চোখে পড়েছে। পোস্টারের নিচে ‘জুলাই-আগস্ট সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি’ নাম উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ নামে সরকারিভাবে ঘোষিত কোনো জাতীয় দিবস নেই। একই সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পুলিশের নিয়মিত টহলের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে রাতের আঁধারে বিপুলসংখ্যক পোস্টার কীভাবে লাগানো হলো, সেটিও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার মতে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবসকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রচারণার পেছনে কারা রয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য কী—তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি জনসম্মুখে তুলে ধরা হলে বিভ্রান্তি ও গুঞ্জন কমবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও অভিমত, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসকে ঘিরে যেকোনো বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক প্রচারণার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দায়ীদের শনাক্ত করা জরুরি বলেও তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোস্টারগুলো কে বা কারা লাগিয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য কী—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তে পুলিশের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ নামে সরকারিভাবে ঘোষিত কোনো দিবস নেই। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
সৈয়দ মাসুদ,রাজশাহী 






















