ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলনের গণমিছিল ও সমাবেশ সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালে ভয়াবহ বজ্রাঘাতে মাঠেই ফুটবলারের মৃত্যু ‘ডিসেম্বরে দেশে এলে রাজপথেই দেখা হবে’- ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে আবারও ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান হতে পারে-ইবি উপাচার্য সিঙ্গেল মায়েদের স্বাবলম্বিতা ও বিহারী শিশুদের শিক্ষায় অনন্য সামাজিক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের রাজপথের সংঘাতের প্রভাব শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না মায়ের উদ্দেশে শেষ চিঠি লিখেই আন্দোলনে যান আনাস
ময়মনসিংহে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

ময়মনসিংহে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

“জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬। এ উপলক্ষে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) ময়মনসিংহ টাউন হলের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যায়, বৈষম্য ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জুলাইয়ের আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শিক্ষা হলো অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো।

তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মান করা এবং মাদক, পরীক্ষায় অসদুপায়, সরকারি সম্পদ বিনষ্টসহ সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তি, আইন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে মত প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নতুন প্রজন্মকে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি দেশপ্রেম, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়; এটি দেশের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—উভয়ই বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং রাষ্ট্রের ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়, এটি জাতির আত্মমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। তিনি গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এ সময় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


 

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

ময়মনসিংহে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:০১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

“জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬। এ উপলক্ষে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) ময়মনসিংহ টাউন হলের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যায়, বৈষম্য ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জুলাইয়ের আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শিক্ষা হলো অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো।

তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মান করা এবং মাদক, পরীক্ষায় অসদুপায়, সরকারি সম্পদ বিনষ্টসহ সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তি, আইন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে মত প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নতুন প্রজন্মকে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি দেশপ্রেম, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়; এটি দেশের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—উভয়ই বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং রাষ্ট্রের ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়, এটি জাতির আত্মমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। তিনি গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এ সময় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।