
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আজ ৫ আগস্ট (বুধবার) জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ১০টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত কর্মসূচি ও আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। সেই আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সরকার ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর জুলাই শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, শহীদদের অবদান এবং নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সুধীজন। একইসঙ্গে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ী করার অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনেরও ব্যবস্থা থাকবে।
দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। এছাড়া শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিশেষ অনুষ্ঠান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা তুলে ধরা হবে।
জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও স্মৃতিস্তম্ভে আলোকসজ্জা করা হবে।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে এই আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটির সব কর্মসূচি সফল করতে জেলার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 























