
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি অফিস চলাকালে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগ, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত কক্ষ ত্যাগের ভাইরাল ভিডিও এবং ঘটনাটি নিয়ে একের পর এক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে বদলির আদেশ পেলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. মো. ইনজামাম উল হক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে, তবে স্থানীয়ভাবে আলোচিত ওই ঘটনা এবং তা নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পরপরই বদলির এ সিদ্ধান্ত আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কয়েকদিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই অ্যাপোলো হাসপাতালে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগ ওঠে ডা. ইনজামাম উল হকের বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকরা হাসপাতালে প্রবেশ করলে তিনি দ্রুত কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। পরে হাসপাতালের বাইরে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি দাবি করেন, তিনি সেখানে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন।

এ ঘটনার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি চিকিৎসকদের অফিস চলাকালে অনুমোদন ছাড়া ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শৃঙ্খলাভঙ্গের আওতায় পড়তে পারে বলেও বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এরই মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডা. ইনজামাম উল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলির আদেশ দেয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. মো. ইনজামাম উল হকের বদলি আদেশ এবং রিলিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. একে এম শাহাব উদ্দিন ।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি বদলির আদেশ তদন্ত প্রক্রিয়ার বিকল্প নয় বলেও অনেকের মত। অন্যদিকে, অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, প্রজ্ঞাপনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্মারক নং ৪৫.০১.০০০০.০০০.০০৪.১৯.০০০২.২৬.২১-৫৬১, তারিখ ৪ জুলাই ২০২৬ অনুযায়ী জারি করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 























