
রাজধানীর মিরপুরে অগ্নিদগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা পোশাকশ্রমিক শিফা আক্তার (১৮) দীর্ঘ চিকিৎসার পরও বেঁচে ফিরতে পারলেন না। দগ্ধ হওয়ার ১১ দিনের মাথায় রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার তাঁর স্বামী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে, যাতে দেখা যায় শিফা মায়ের বাসা থেকে বের হয়ে নিজেই এই ঘটনার শিকার হন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শিফার পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে। চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। প্রায় আট মাস আগে একই উপজেলার লাউরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের সোহেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকার বড়বাগে আজমত গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং দুজনই একই পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে দম্পতি হাজারিবাগে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, দাম্পত্য জীবনে নানা বিষয়ে মনোমালিন্য থাকায় কয়েকবার শিফা মিরপুরের বাবার বাসায় ফিরে যান।
শিফার বাবা জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, বিয়ের সময় নির্ধারিত যৌতুকের টাকা আর্থিক সংকটে পরিশোধ করতে না পারায় সোহেল ও তাঁর পরিবার শিফাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করতেন। এ কারণেই শিফা গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছিলেন, পরে সোহেলও ঢাকায় এসে কর্মসংস্থান করেন। ঘটনার সময় শিফা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
জাহাঙ্গীর আলম আরও অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগেও সোহেল শিফাকে মারধর করেছিলেন এবং গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে শিফা চাকরি ছেড়ে দেন। জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, ২৪ জুন রাতের এই ঘটনায় সোহেলের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার দাবি করেন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, গত ২৪ জুন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তখন থানায় বিষয়টি জানানো হয়নি। রোববার বিকেলে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে শিফাকে মায়ের বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তার একটি দোকান থেকে গ্যাস লাইটার সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পেছনে প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 




















