
দেশের প্রতিটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে যায় এবং কেউ যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না থাকে, এমন নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি। তিনি বলেন, প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষা লাভ করবে এবং সকল শিক্ষার্থীকে সঠিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হতে হবে। দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত দেশগুলোর মতো গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ সাটু অডিটরিয়ামে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী হাজ্জাজ।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, কীভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন করা যায় এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ উপযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করা যায়, তা নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ইতিমধ্যে সুফল পাওয়া গেছে এবং আগামীতে দেশের সব বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। খাবারের মান বজায় রাখতে চলমান ঠিকাদারি প্রক্রিয়ার প্রতি কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রক্রিয়া পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কয়েকটি দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা সম্ভব কিনা, সে বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের পাঠদানের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, বিদ্যালয় ভবনেই ওয়াশরুম নিশ্চিতকরণ, প্লে গ্রাউন্ড এবং খেলার মাঠের ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি এবং নদীভাঙন কবলিত এলাকার বিদ্যালয়গুলো যাতে প্রয়োজনে সহজে সরিয়ে নেওয়া যায়, এমনভাবে নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে অফিস কর্মচারী ও নাইটগার্ড নিয়োগের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ বিদ্যালয় পরিবেশ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম এবং খেলার সুযোগ থাকা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিক শিক্ষায় পুষ্টি ও শিক্ষার সংযোগ
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে স্বীকৃত। পুষ্টিকর খাবার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের একাগ্রতা ও শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশেষত দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের জন্য এই কর্মসূচি ঝরে পড়া রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।
সভায় জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক আবুল আমিনসহ অন্যান্যরা।
সার্বিকভাবে সভায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হারও কমে আসবে।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 





















