
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে স্বস্তি নেই সাধারণ ক্রেতাদের। আটা, ময়দা, ডিম, মাছ ও মুরগির দাম বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। সীমিত আয়ে সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও কেরানীগঞ্জের বউবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের এমন চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আটা, ময়দা, ডিম, মাছ, মুরগি ও ভোজ্যতেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
আটা-ময়দার দাম বাড়ায় বাড়তি চাপ
রাজধানীর নয়াবাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ময়দার দাম প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এক মাস আগে খোলা আটা ৪৫ টাকা এবং ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।
দুই কেজির প্যাকেট ময়দার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। এক মাস আগে একই পরিমাণ ময়দা কিনতে খরচ হতো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ৫০ কেজির ময়দার বস্তার দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে।
ময়দার দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বনরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যে। গত শনিবার থেকে রুটি, কেক ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আপাতত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে সম্মত হন তাঁরা। যদিও ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে সব পণ্য আগের দামে পাওয়া যাচ্ছে না।
সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। ছুটির দিনে চাহিদা বেশি থাকায় কয়েকটি সবজির দাম আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, গোল বেগুন ১১০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া শিমের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে সবজি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। তবে নতুন সবজি বাজারে এলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমে আসতে পারে।
ডজনপ্রতি ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা
ডিমের বাজারেও উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। ছয় মাস আগে ডজনপ্রতি দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।
ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। দেড় মাস আগে এর দাম প্রায় ২০ টাকা কম ছিল। অন্যদিকে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাছের বাজারে চড়া দাম, কিছুটা কমেছে ইলিশ
মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকা, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা প্রায় ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে আগের তুলনায় ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ৮৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতাদের মতে, বাজারে ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে।
কর-শুল্ক কমানোর সুফল নিয়ে প্রশ্ন
চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাল, আটা, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। তবে এর সুফল খুচরা বাজারে পুরোপুরি পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।
তাঁদের ভাষ্য, কর কমানোর পরও বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। বরং কিছু পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, কর কমানোর পরও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম কমেনি। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় দৈনন্দিন বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে না এলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।
অধিকার ডেস্কঃ 






















