ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

বরিশালের ৮ কলেজে এবার ভর্তি হয়নি একজন শিক্ষার্থীও

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৫১ Time View

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আট কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চ মাধ্যমিকে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন আটটি কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকট, এমপিওভুক্ত না হওয়া, স্থানীয় বিরোধসহ নানা কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও শিক্ষা বোর্ডের তালিকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান অনুমতি থাকায় চলতি বছর এসব কলেজ ‘শিক্ষার্থীশূন্য’ হিসেবে উঠে এসেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের ১০টি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। এর মধ্যে আটটি কলেজই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন।

শিক্ষার্থী না পাওয়া আট প্রতিষ্ঠান হলো—বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলীর বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সেহাঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সদরের পাজাখালী কলেজ, গলাচিপার পানপট্টি কলেজ এবং পিরোজপুরের কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতন।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল। অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শিক্ষক সংকটে থেমেছে কার্যক্রম

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশ কয়েকটি ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, এমপিও না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে বিনা বেতনে কাজ করা অনেক শিক্ষকও একসময় অন্যত্র চলে যান। শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম আর চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিরোধ ও নানা সমস্যাকেও শিক্ষার্থী না পাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদান অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদনও করেছে। তবে বোর্ডের তথ্যভান্ডারে অনুমতি বহাল থাকায় চলতি বছরের ভর্তির তালিকায় সেগুলো শিক্ষার্থীশূন্য হিসেবে দেখা গেছে।

কদভানু মেমোরিয়ালে বন্ধ উচ্চ মাধ্যমিক শাখা

বেতাগীর চান্দুখালী বাজার এলাকায় ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ২০১৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। পরে ২০২৪ সালে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক শামীমা নাসরিনের ভাষ্য, প্রতিবছর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়ের পাশেই নিজের নামে একটি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ওই কলেজে ভর্তি হওয়ায় বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেয়।

এমপিও না হওয়ায় শিক্ষকরা সরে যান

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ২০১৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়। প্রতিষ্ঠানটির সদ্য অবসর নেওয়া প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান জানান, আশপাশের কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিনা বেতনে প্রভাষক হিসেবে সেখানে ক্লাস নিতেন।

কিন্তু দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্তি না হওয়ায় ওই শিক্ষকরা একপর্যায়ে আর যোগাযোগ রাখেননি। পরে বিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাস চালানোর চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের পর সেখানে আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।

দাতার সহযোগিতা বন্ধ, থেমে যায় কলেজ

স্বরূপকাঠির সেহাঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তবে বোর্ডের পাঠদান অনুমতি পাওয়া ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আর উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা পায়নি।

কলেজের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়লে একপর্যায়ে ওই দাতার সহযোগিতাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় চার বছর আগে কলেজের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে দুজন অংশ নিয়ে একজন উত্তীর্ণ হন।

দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ পূর্ব জালাবাড়ির কলেজ শাখা

স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কবে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তিনি জানান, প্রায় তিন দশক আগে উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন সময়ে তা বন্ধ ছিল।

প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২১১ জন অংশ নিয়ে ১৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। ২০২৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ছয়জন।

স্থানীয় বিরোধে ভর্তি বন্ধের অভিযোগ

কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ স্থানীয় বিরোধকে কলেজ শাখা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাঁর দাবি, একটি পক্ষ শিক্ষার্থীদের সেখানে ভর্তি না হওয়ার জন্য প্রচার চালায়। পরে তারাই উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদান অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করে। ফলে প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ মাধ্যমিকে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

পাজাখালী কলেজে আবার চালুর উদ্যোগ

পটুয়াখালীর পাজাখালী কলেজ ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী কলেজে শিক্ষার্থী না থাকার জন্য প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষককে দায়ী করেছেন।

তাঁর দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে তাবলিগ জামাতে থাকার সুযোগে শিক্ষকদের একটি অংশের কারণে কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী নেই। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে কলেজটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শিক্ষা বোর্ডের

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, তিনি তিন মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীশূন্য কলেজগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই।

তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থী নেই এমন কলেজগুলোর তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

বরিশালের ৮ কলেজে এবার ভর্তি হয়নি একজন শিক্ষার্থীও

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন আটটি কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকট, এমপিওভুক্ত না হওয়া, স্থানীয় বিরোধসহ নানা কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও শিক্ষা বোর্ডের তালিকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান অনুমতি থাকায় চলতি বছর এসব কলেজ ‘শিক্ষার্থীশূন্য’ হিসেবে উঠে এসেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের ১০টি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। এর মধ্যে আটটি কলেজই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন।

শিক্ষার্থী না পাওয়া আট প্রতিষ্ঠান হলো—বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলীর বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সেহাঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সদরের পাজাখালী কলেজ, গলাচিপার পানপট্টি কলেজ এবং পিরোজপুরের কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতন।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল। অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শিক্ষক সংকটে থেমেছে কার্যক্রম

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশ কয়েকটি ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, এমপিও না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে বিনা বেতনে কাজ করা অনেক শিক্ষকও একসময় অন্যত্র চলে যান। শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম আর চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিরোধ ও নানা সমস্যাকেও শিক্ষার্থী না পাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদান অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদনও করেছে। তবে বোর্ডের তথ্যভান্ডারে অনুমতি বহাল থাকায় চলতি বছরের ভর্তির তালিকায় সেগুলো শিক্ষার্থীশূন্য হিসেবে দেখা গেছে।

কদভানু মেমোরিয়ালে বন্ধ উচ্চ মাধ্যমিক শাখা

বেতাগীর চান্দুখালী বাজার এলাকায় ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ২০১৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। পরে ২০২৪ সালে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক শামীমা নাসরিনের ভাষ্য, প্রতিবছর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়ের পাশেই নিজের নামে একটি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ওই কলেজে ভর্তি হওয়ায় বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেয়।

এমপিও না হওয়ায় শিক্ষকরা সরে যান

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ২০১৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়। প্রতিষ্ঠানটির সদ্য অবসর নেওয়া প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান জানান, আশপাশের কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিনা বেতনে প্রভাষক হিসেবে সেখানে ক্লাস নিতেন।

কিন্তু দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্তি না হওয়ায় ওই শিক্ষকরা একপর্যায়ে আর যোগাযোগ রাখেননি। পরে বিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাস চালানোর চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের পর সেখানে আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।

দাতার সহযোগিতা বন্ধ, থেমে যায় কলেজ

স্বরূপকাঠির সেহাঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তবে বোর্ডের পাঠদান অনুমতি পাওয়া ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আর উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা পায়নি।

কলেজের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়লে একপর্যায়ে ওই দাতার সহযোগিতাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় চার বছর আগে কলেজের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে দুজন অংশ নিয়ে একজন উত্তীর্ণ হন।

দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ পূর্ব জালাবাড়ির কলেজ শাখা

স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কবে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তিনি জানান, প্রায় তিন দশক আগে উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন সময়ে তা বন্ধ ছিল।

প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২১১ জন অংশ নিয়ে ১৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। ২০২৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ছয়জন।

স্থানীয় বিরোধে ভর্তি বন্ধের অভিযোগ

কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ স্থানীয় বিরোধকে কলেজ শাখা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাঁর দাবি, একটি পক্ষ শিক্ষার্থীদের সেখানে ভর্তি না হওয়ার জন্য প্রচার চালায়। পরে তারাই উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদান অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করে। ফলে প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ মাধ্যমিকে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

পাজাখালী কলেজে আবার চালুর উদ্যোগ

পটুয়াখালীর পাজাখালী কলেজ ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী কলেজে শিক্ষার্থী না থাকার জন্য প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষককে দায়ী করেছেন।

তাঁর দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে তাবলিগ জামাতে থাকার সুযোগে শিক্ষকদের একটি অংশের কারণে কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী নেই। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে কলেজটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শিক্ষা বোর্ডের

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, তিনি তিন মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীশূন্য কলেজগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই।

তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থী নেই এমন কলেজগুলোর তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।