ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

আর্টিমিয়া চাষ ও গিফট তেলাপিয়া বিস্তারে বাংলাদেশ-কেনিয়া-ঘানার সহযোগিতা

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৪১ Time View

ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কর্মশালায় বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার প্রতিনিধিরা। ছবি: সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য চাষের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কর্মশালা। ‘Brine Shrimp Artemia Aquaculture, GIFT Dissemination and Institutional Collaboration’ শীর্ষক এ আয়োজনে বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার মৎস্য খাতের সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

ওয়ার্ল্ডফিশ আয়োজিত কর্মশালায় তিন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে আর্টিমিয়া চাষ, গিফট তেলাপিয়ার বিস্তার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

কর্মশালাটি সিজিআইএআর-এর ‘Sustainable Animal and Aquatic Foods’ এবং ‘Scaling for Impact (S4I) Science Program’-এর আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে আর্টিমিয়া চাষ, লবণ-আর্টিমিয়া-মৎস্যের সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা এবং GIFT (Genetically Improved Farmed Tilapia) তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার প্রথম অধিবেশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও অর্জন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে কক্সবাজারের লবণ মাঠে আর্টিমিয়ার সঙ্গে চিংড়ি, তেলাপিয়া, কাঁকড়া ও সবজি চাষের সমন্বিত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া আর্টিমিয়া সিস্ট ও বায়োমাস উৎপাদন, হ্যাচারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল মাছ চাষের বিভিন্ন উদ্যোগও উঠে আসে আলোচনায়।

এ পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্যাট্রিক সরগেলুস এবং ওয়ার্ল্ডফিশের আর্টিমিয়া বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান। তাঁরা বিশ্বব্যাপী আর্টিমিয়া গবেষণা ও উন্নয়নের অগ্রগতি এবং বাংলাদেশে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশে প্রায় তিন দশকের গিফট তেলাপিয়া উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হোসেনের প্রণীত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ.এইচ.এম. কহিনুর ও জিল্লুর রহমান।

আলোচনায় গিফট তেলাপিয়ার জেনেটিক মান বজায় রাখা, দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তির বিস্তার এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কেনিয়া ও ঘানায় এসব অভিজ্ঞতা প্রয়োগের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ.টি.এম. ফারুক-উল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে মৎস্য খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও টেকসই প্রযুক্তির বিস্তার আরও কার্যকর করা সম্ভব। বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জলজ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ওয়ার্ল্ডফিশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. খন্দকার মুরশেদ-ই-জাহান বলেন, গিফট একটি পরীক্ষিত প্রযুক্তি। তবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে এর কার্যকর সম্প্রসারণের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি প্রয়োজন।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিকের পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ইনল্যান্ড ফিশারিজ) ড. মোতালেব হোসেন এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা, পরিকল্পনা ও অর্থ) ড. আমিরুল ইসলাম।

আয়োজকদের মতে, এই কর্মশালার মাধ্যমে বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকায় উৎপাদনশীল, জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জলজ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সূত্র: সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

আর্টিমিয়া চাষ ও গিফট তেলাপিয়া বিস্তারে বাংলাদেশ-কেনিয়া-ঘানার সহযোগিতা

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য চাষের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কর্মশালা। ‘Brine Shrimp Artemia Aquaculture, GIFT Dissemination and Institutional Collaboration’ শীর্ষক এ আয়োজনে বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার মৎস্য খাতের সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

ওয়ার্ল্ডফিশ আয়োজিত কর্মশালায় তিন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে আর্টিমিয়া চাষ, গিফট তেলাপিয়ার বিস্তার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

কর্মশালাটি সিজিআইএআর-এর ‘Sustainable Animal and Aquatic Foods’ এবং ‘Scaling for Impact (S4I) Science Program’-এর আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে আর্টিমিয়া চাষ, লবণ-আর্টিমিয়া-মৎস্যের সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা এবং GIFT (Genetically Improved Farmed Tilapia) তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার প্রথম অধিবেশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও অর্জন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে কক্সবাজারের লবণ মাঠে আর্টিমিয়ার সঙ্গে চিংড়ি, তেলাপিয়া, কাঁকড়া ও সবজি চাষের সমন্বিত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া আর্টিমিয়া সিস্ট ও বায়োমাস উৎপাদন, হ্যাচারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল মাছ চাষের বিভিন্ন উদ্যোগও উঠে আসে আলোচনায়।

এ পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্যাট্রিক সরগেলুস এবং ওয়ার্ল্ডফিশের আর্টিমিয়া বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান। তাঁরা বিশ্বব্যাপী আর্টিমিয়া গবেষণা ও উন্নয়নের অগ্রগতি এবং বাংলাদেশে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশে প্রায় তিন দশকের গিফট তেলাপিয়া উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হোসেনের প্রণীত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ.এইচ.এম. কহিনুর ও জিল্লুর রহমান।

আলোচনায় গিফট তেলাপিয়ার জেনেটিক মান বজায় রাখা, দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তির বিস্তার এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কেনিয়া ও ঘানায় এসব অভিজ্ঞতা প্রয়োগের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ.টি.এম. ফারুক-উল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে মৎস্য খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও টেকসই প্রযুক্তির বিস্তার আরও কার্যকর করা সম্ভব। বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জলজ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ওয়ার্ল্ডফিশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. খন্দকার মুরশেদ-ই-জাহান বলেন, গিফট একটি পরীক্ষিত প্রযুক্তি। তবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে এর কার্যকর সম্প্রসারণের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি প্রয়োজন।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিকের পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ইনল্যান্ড ফিশারিজ) ড. মোতালেব হোসেন এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা, পরিকল্পনা ও অর্থ) ড. আমিরুল ইসলাম।

আয়োজকদের মতে, এই কর্মশালার মাধ্যমে বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকায় উৎপাদনশীল, জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জলজ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সূত্র: সংবাদ বিজ্ঞপ্তি