
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় টিম-০৪-এর উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
দুর্গাপুর জলাধারে জমে থাকা পানি অপসারণ
অভিযান চলাকালে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাপুর এলাকার কয়েকটি জলাধারে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। পরে পৌরসভার টিম-০৪-এর সদস্যরা জমে থাকা পানি অপসারণ করেন।
একই সঙ্গে জলাধারের মালিকপক্ষকে ভবিষ্যতে যাতে সেখানে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়। পানি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযানের সময় জলাধারের আশপাশে কিছু মশা উড়তে দেখা গেলেও পরিদর্শনে মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময় কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই জলাধার, পরিত্যক্ত পাত্র ও খোলা জায়গায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্তে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা অপসারণ করাই ছিল অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। এ সময় বাড়িঘরের আঙিনা, গলি, খোলা জায়গা ও আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য পরিবেশ দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণের প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী।
এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মোসাঃ তানজিলা খাতুন, মোঃ এ্যানি খাতুন ও মোসাঃ খুসি আরা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় এলাকাবাসীও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পৌরসভার অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম, ইউসুফ, ফয়সাল, মেহেদী, আরাফাত ও আফজালসহ রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
জমে থাকা পানিতে মশার ঝুঁকি
সংশ্লিষ্টরা জানান, এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত ক্যান, প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা ও বিভিন্ন জলাধারে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, দোকানপাটের আশপাশ ও খোলা স্থানে পড়ে থাকা বিভিন্ন পাত্রেও পানি জমতে পারে।
এ কারণে বাড়ির ভেতর ও বাইরের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পানি জমতে পারে এমন স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

লিফলেট বিতরণ ও সচেতনতামূলক প্রচার
অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির ব্যানারে ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’—এমন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।
নাগরিকদের নিয়মিত বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি বাড়ির ছাদ, বারান্দা, বাগান, ফুলের টব ও পানির পাত্র নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা অপসারণ অথবা এমনভাবে সংরক্ষণ করতে বলা হয়, যাতে সেখানে পানি জমতে না পারে।
সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির চারপাশ পরীক্ষা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, জলাধার এবং আশপাশের খোলা জায়গা ভালোভাবে পরীক্ষা করে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে মশার সম্ভাব্য বংশবিস্তারের পরিবেশ কমানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সম্মিলিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। পৌরসভার মাঠপর্যায়ের অভিযানের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল কমানো সম্ভব।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিতভাবে জমে থাকা পানি অপসারণ, জলাধার পরিষ্কার রাখা এবং পরিত্যক্ত পাত্র সরিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 





















