
সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ছাড়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বপ্রণোদিত মামলা করেছে আদালত। টিকিট কালোবাজারি ও মজুতের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে বিক্রির কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি করেন। তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার মামলার নথিপত্র পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছেছে। মামলাটির তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আহাদ। তিনি জানিয়েছেন, আদালতের স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
সিলেট থেকে ঢাকার পথে উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা ও পারাবত এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম রুটে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস চলাচল করে। এসব ট্রেনের টিকিটের বড় অংশই অনলাইনে বিক্রি করা হয়। তবে টিকিট বিক্রির সময় শুরু হওয়ার পর অনেক যাত্রী চেষ্টা করেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে রেলের ওয়েবসাইটে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এত অল্প সময়ে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেন আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কোনো একটি চক্র রেলের টিকিট বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারও কারও সহায়তায় বিপুলসংখ্যক টিকিট দ্রুত কিনে নিয়ে পরে তা বেশি দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
এজাহারে টিকিট কালোবাজারি ও মজুতদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্তের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
আদালত মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি সিলেটের পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে ট্রেনের টিকিট সহজে না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
এদিকে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম বলেন, রেলের টিকিট বর্তমানে অনলাইনে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ কেউ সরাসরি কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করেন। তবে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়ায় স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে জানান তিনি।
পিবিআইয়ের তদন্তে টিকিট দ্রুত বিক্রির প্রকৃত কারণ, কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা এবং টিকিট পুনরায় বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
অধিকার ডেস্কঃ 

























