
জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাপান-বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (JBA) যৌথভাবে ‘Human Resources, Trade, and Investment’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে জেবিএর সভাপতি ও সদস্যরা ছাড়াও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যৎমুখী আস্থার ভিত্তিতেও এ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং জাপানের বয়স্ক ও হ্রাসমান জনসংখ্যার বাস্তবতার মধ্যে সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন রাষ্ট্রদূত। তাঁর মতে, দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি জাপানের শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং এতে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।
সেমিনারে দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মোরারজী দেশাই বর্মন বাংলাদেশ ও জাপানের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন।
উপস্থাপনায় জানানো হয়, জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ২০২৪ সালে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এ সময় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এসব উদ্যোগ দুই দেশের যোগাযোগ, লজিস্টিকস ও বিনিয়োগের পরিবেশ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে বলে সেমিনারে উল্লেখ করা হয়।
পরে কাউন্সিলর (শ্রম) জয়নাল আবেদিন জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তির সম্ভাবনা এবং দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন। এতে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন কর্মসূচি ও সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, জাপানের শ্রমবাজারের গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই সেলের মাধ্যমে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (TITP), স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (SSW) এবং উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে জাপানে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।
সেমিনারের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও জাপানের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে একটি নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা দুই দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
অধিকার ডেস্কঃ 























