
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: একসময় যে সড়কে ছিল আবর্জনার দুর্গন্ধ, সেখানে এখন ছড়াচ্ছে ফুলের সুবাস। সড়কের দুই পাশের দেয়াল জুড়ে ঝুলছে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। ফেলে দেওয়া ঝুড়ি, বালতি ও মগে লাগানো এসব গাছ বদলে দিয়েছে পুরো এলাকার চেহারা। ময়মনসিংহ নগরীর বাঁশবাড়ি কলোনি এখন পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের এক অনন্য উদাহরণ।
চার তরুণের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলোনিতে আসেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো একটি ছবি দেখে তিনি এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবেশবান্ধব কাজের প্রশংসা করেন।
২০২৩ সালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার পরিবেশ বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন চার তরুণ—মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা দেয়ালে বাগান করার কাজ শুরু করেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়াল সবুজে ছেয়ে যায়।
এই বাগানে কোথাও রয়েছে অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুল, আবার কোথাও পাতাবাহারের শোভা। রাতের নীরবতায় হাসনাহেনার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। গাছগুলোর ফাঁকে লেখা আছে—‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে’। এ যেন প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক নীরব বার্তা।
পরিদর্শন শেষে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বসবাসের জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং বেশি করে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন সম্ভব। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য শহরেও বাঁশবাড়ি কলোনির এই মডেল ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
উদ্যোক্তা মুরাদ হাসান বলেন, একটি ছোট উদ্যোগই এলাকার পরিবেশ বদলে দিয়েছে। মন্ত্রীর এই পরিদর্শন তাঁদের কাজের অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাঁশবাড়ি কলোনি আজ শুধু একটি আবাসিক এলাকা নয়। সম্মিলিত উদ্যোগ, সদিচ্ছা আর প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থাকলে যে দুর্গন্ধময় সড়কও প্রশান্তির ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে, এই কলোনি তারই প্রমাণ।
শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 




















