
বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নতুন নিয়োগ বাতিল ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্দোলনের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও শহরের বিভিন্ন সড়ক পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। ফলে ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত চকবাজারসহ শহরের ব্যস্ততম এলাকায় আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, ক্রেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিজেদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে চকবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ময়লা ফেলে বিক্ষোভ করেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। পরে পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসার হস্তক্ষেপে ময়লা সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও শহরের বেশ কিছু স্থানে আবর্জনা রয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সিরাজ, সবুজ ও তারেক জানান, দোকানের সামনের ফুটপাতে ময়লা স্তূপ হয়ে থাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আবর্জনার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে ইতস্তত করছেন। এতে বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। শনিবার পৌরসভার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তাঁরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেননি। তাঁরা জানান, রোববার লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে জনবহুল বাজারে ময়লা ফেলে রাখা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা শাখার কনজারভেন্সি পরিদর্শক ফয়েজ আহম্মদ বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়কে ময়লা ফেলে আন্দোলন করেছিলেন। পৌর প্রশাসক তাঁদের সঙ্গে বসেছেন এবং পরে ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দূরদূরান্ত থেকে এসে কাজ করেন। তাঁদের ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নিয়েও বড় কোনো জটিলতা নেই।
তবে শহরের কিছু অংশে এখনো কেন ময়লার স্তূপ রয়ে গেছে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসা ও নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শহরের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে দ্রুত সব ময়লা-আবর্জনা অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ 
























