ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
চীনা দূতাবাসের জিম্মায় জামিন পেলেন চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিক ‘অপলক’ দিয়ে বড় পর্দায় রাজীব, জুটি হচ্ছেন নিশো-মেহজাবীন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষার নতুন বই, জানালেন প্রতিমন্ত্রী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব কি কমছে? খাদ্য অপচয় কমাতে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান পোশাকশ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকারের প্রতি শফিকুর রহমানের আহ্বান চট্টগ্রামে শ্রমিক হত্যা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মশাল মিছিল টেস্ট বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি তাইজুল ও মিরাজের
মোবাইল ছিনতাইয়ের বাধা দেওয়ায় খুন

অপ্রতিম হত্যায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১২:২১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৫৯ Time View

নিহত শিশু শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (ফাইল ছবি)

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। এতে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন।

চার্জশিট অনুযায়ী, অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় সে বাধা দিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি জড়িত দেখানো হয়েছে। এছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে পুরো পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কৌশলে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন পাহাড়ি বনে নিয়ে যান তুহিন। সেখানে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপ্রতিম প্রবল বাধা দেয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় বারবার আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যান।

পরে মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তার বাসা থেকে নিহতের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ছেলেকে ঘিরেই তাদের জীবনের সব স্বপ্ন ছিল, যা নির্মমভাবে শেষ হয়ে গেছে। তিনি আদালতের কাছে দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। বয়সসহ কোনো আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে যেন কেউ দায় এড়াতে না পারে, সেটিই এখন পরিবারের একমাত্র চাওয়া বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা দূতাবাসের জিম্মায় জামিন পেলেন চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিক

মোবাইল ছিনতাইয়ের বাধা দেওয়ায় খুন

অপ্রতিম হত্যায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট

প্রকাশের সময়ঃ ১২:২১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। এতে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন।

চার্জশিট অনুযায়ী, অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় সে বাধা দিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি জড়িত দেখানো হয়েছে। এছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে পুরো পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কৌশলে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন পাহাড়ি বনে নিয়ে যান তুহিন। সেখানে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপ্রতিম প্রবল বাধা দেয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় বারবার আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যান।

পরে মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তার বাসা থেকে নিহতের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ছেলেকে ঘিরেই তাদের জীবনের সব স্বপ্ন ছিল, যা নির্মমভাবে শেষ হয়ে গেছে। তিনি আদালতের কাছে দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। বয়সসহ কোনো আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে যেন কেউ দায় এড়াতে না পারে, সেটিই এখন পরিবারের একমাত্র চাওয়া বলে জানান তিনি।