
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদূর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন চান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় একটি মিছিলে অংশ নেন। অভিযোগে বলা হয়, তাঁরা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ১৮ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, দিলীপ আগরওয়ালা ওই ঘটনার অর্থদাতা ও মদদদাতা হিসেবে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পলাতক সহযোগীদের পরিচয়, তাঁদের পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক সরবরাহের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়।
গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা চোরাচালানের অভিযোগে করা মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় আদালত তাঁর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২১ অক্টোবর একদিনের রিমান্ড শেষে একই আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ২৭ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরে ২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক আছেন।
অধিকার ডেস্কঃ 



















