
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক কলেজছাত্রীর অনশন ঘিরে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেম, বিয়ে, অস্বীকৃতি আর অনশনের এই নাটকীয় ঘটনায় সরগরম পুরো এলাকা। অনশনরত কলেজছাত্রী সাদিয়া আক্তার শশী (২৩) ঘোষণা দিয়েছেন—“স্বীকৃতি না পেলে অনশন ভাঙবো না।”
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ম্যাটস কোয়ার্টারে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন শশী। তার দাবি, বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোসাঃ কাজল রেখার ছেলে মোঃ কামরুল ইসলাম নিরবের (২৯) সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেই সম্পর্ক অস্বীকার করে তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিচ্ছে না নিরবের পরিবার।
অনশনরত শশীর অভিযোগ, সম্পর্কের পর বিয়েও হয়েছে, কিন্তু এখন সামাজিক ও পারিবারিক চাপে নিরবের পরিবার তাকে প্রত্যাখ্যান করছে। স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত সরকারি কোয়ার্টার ছাড়বেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এমনকি আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
অন্যদিকে কামরুলের পরিবার সম্পর্কটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। কামরুলের বাবা, বরিশাল সদর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মজনু মিয়া, এ সম্পর্ক মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের দোহাই দিয়ে মেয়ের পরিবারকে ছোট করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। উৎসুক জনতার ভিড়, কানাঘুষা আর নানা আলোচনা-সমালোচনায় পুরো এলাকা সরগরম। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এটি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা ও নারীর অধিকার প্রশ্নে এক প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই অনশনরত ছাত্রীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সৈয়দ নুর আহছান, বরিশাল 



















