ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

দুই মণ ধানেও মিলছে না শ্রমিক, হারভেস্টার ভাড়ায় বাড়তি চাপ

সংগৃহীত ছবি।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। আগে যেখানে এক মণ বা তারও কম ধানে শ্রমিক পাওয়া যেত, সেখানে এখন দুই মণ ধান দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। একই সঙ্গে হারভেস্টার মেশিনের ভাড়াও নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ৫৮৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকেরা।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ কাঁচা ধানের দাম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে থাকলেও একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৩০০ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের আর্থিক চাপ বাড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে গড়ে প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু গড়ে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও প্রতি মণ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। এতে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকার ধান পানির নিচে রয়েছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বর্তমানে উপজেলায় ২৭টি হারভেস্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও মেশিন আনা হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমি কাটার জন্য সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি ভাড়া আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব মিলিয়ে চাপে পড়েছেন কটিয়াদীর কৃষকেরা।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

দুই মণ ধানেও মিলছে না শ্রমিক, হারভেস্টার ভাড়ায় বাড়তি চাপ

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৩০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। আগে যেখানে এক মণ বা তারও কম ধানে শ্রমিক পাওয়া যেত, সেখানে এখন দুই মণ ধান দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। একই সঙ্গে হারভেস্টার মেশিনের ভাড়াও নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ৫৮৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকেরা।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ কাঁচা ধানের দাম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে থাকলেও একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৩০০ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের আর্থিক চাপ বাড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে গড়ে প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু গড়ে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও প্রতি মণ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। এতে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকার ধান পানির নিচে রয়েছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বর্তমানে উপজেলায় ২৭টি হারভেস্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও মেশিন আনা হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমি কাটার জন্য সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি ভাড়া আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব মিলিয়ে চাপে পড়েছেন কটিয়াদীর কৃষকেরা।