ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

বটতলায় বসেই সারা দেশের স্বাদ, ইবিতে ‘বাংলাদেশী উৎসব’

ইবিতে ‘বাংলাদেশী উৎসব’।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্য’র উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশী উৎসব-১৪৩৩’ আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এ উৎসব আজ বুধবার (৬ মে) শেষ হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাসে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন যেন এক টুকরো বাংলাদেশকে একত্রে হাজির করেছে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে।

তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি স্টলগুলোতে রয়েছে বাহারি রঙ ও নকশার হাতের বালা, গলার হার, কানের দুলসহ মাটির তৈরি বিভিন্ন হস্ত ও কারুশিল্প পণ্য। এ ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে ফুল ও ফলের গাছসহ বিভিন্ন রকমের বই।

উৎসবকে ঘিরে রয়েছে নাগরদোলা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ক্লাস ও পরীক্ষার ব্যস্ততার মাঝেও এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে এনে দিয়েছে স্বস্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য। অনেকের মতে, এটি সাময়িকভাবে ক্লান্তি দূর করে ক্যাম্পাসে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্যে, রসমালাই ও ইলিশের বাড়ি, চমচমের দেশ রাজবাড়ী, হামাকে নওগাঁ, ম-এ ময়মনসিংহ, ম-এ মন্ডা, HILL FLAVORS, বনলতার বাড়ী, ভৈরব তীরের মিষ্টিমুখ, গৌড়ের রসনা, পাবনার জামাই আদর, খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির (সুন্দরবন), জালালাবাদ (বৃহত্তর সিলেট বিভাগ), Manify, চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, নীলচাষী, গদখালী ফুলঘর (যশোর), পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, মক্তব প্রকাশনা, দিনাজপুর জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি, নরসিংদী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ভাওয়াইয়া সুরে, চরের স্বাদে ও ঐতিহ্যের “কুড়িগ্রাম”, ঢাকাইয়া হাট, যমুনা, সুন্দরবন, Made in Kushtia, ই-ঝিয়ান, লোকসংস্কৃতির নেত্রকোণা, দিশারী বুক হাউজ, Sakif’s Calligraphy, আরশীনগর-ফুড ব্যাংক, Islamic University Music Association, বরিশাল বিভাগ ছাত্র কল্যাণ সমিতি, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, বগুড়ার দইঘর, গাজীপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদসহ প্রায় ৩৪টি স্টল। যেখানে বাঙালি সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও বিভিন্ন জেলার সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অভয়ারণ্যের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসব শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও খাবারের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জেলার খাবার পরিচিত করার পাশাপাশি অন্য জেলার স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

অভয়ারণ্যের সভাপতি নাঈমুল ফারাবী বলেন, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের জিআই পণ্যগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরা। আয়োজনটি সফল করতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জেলা ছাত্রকল্যাণ সংগঠনসহ সামাজিক সংগঠনগুলো সার্বিক সহযোগিতা করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলার যে-সব পণ্য নিজস্ব পরিচয়ে পরিচিত, সেগুলো এখানে এনে প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় ঘুরে এসব পণ্যের স্বাদ নেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বসেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত পণ্য উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এটিকে তিনি বড় একটি অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন, যা শিক্ষার্থীরাও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

বটতলায় বসেই সারা দেশের স্বাদ, ইবিতে ‘বাংলাদেশী উৎসব’

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:০৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্য’র উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশী উৎসব-১৪৩৩’ আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এ উৎসব আজ বুধবার (৬ মে) শেষ হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাসে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন যেন এক টুকরো বাংলাদেশকে একত্রে হাজির করেছে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে।

তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি স্টলগুলোতে রয়েছে বাহারি রঙ ও নকশার হাতের বালা, গলার হার, কানের দুলসহ মাটির তৈরি বিভিন্ন হস্ত ও কারুশিল্প পণ্য। এ ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে ফুল ও ফলের গাছসহ বিভিন্ন রকমের বই।

উৎসবকে ঘিরে রয়েছে নাগরদোলা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ক্লাস ও পরীক্ষার ব্যস্ততার মাঝেও এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে এনে দিয়েছে স্বস্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য। অনেকের মতে, এটি সাময়িকভাবে ক্লান্তি দূর করে ক্যাম্পাসে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্যে, রসমালাই ও ইলিশের বাড়ি, চমচমের দেশ রাজবাড়ী, হামাকে নওগাঁ, ম-এ ময়মনসিংহ, ম-এ মন্ডা, HILL FLAVORS, বনলতার বাড়ী, ভৈরব তীরের মিষ্টিমুখ, গৌড়ের রসনা, পাবনার জামাই আদর, খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির (সুন্দরবন), জালালাবাদ (বৃহত্তর সিলেট বিভাগ), Manify, চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, নীলচাষী, গদখালী ফুলঘর (যশোর), পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, মক্তব প্রকাশনা, দিনাজপুর জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি, নরসিংদী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ভাওয়াইয়া সুরে, চরের স্বাদে ও ঐতিহ্যের “কুড়িগ্রাম”, ঢাকাইয়া হাট, যমুনা, সুন্দরবন, Made in Kushtia, ই-ঝিয়ান, লোকসংস্কৃতির নেত্রকোণা, দিশারী বুক হাউজ, Sakif’s Calligraphy, আরশীনগর-ফুড ব্যাংক, Islamic University Music Association, বরিশাল বিভাগ ছাত্র কল্যাণ সমিতি, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, বগুড়ার দইঘর, গাজীপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদসহ প্রায় ৩৪টি স্টল। যেখানে বাঙালি সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও বিভিন্ন জেলার সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অভয়ারণ্যের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসব শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও খাবারের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জেলার খাবার পরিচিত করার পাশাপাশি অন্য জেলার স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

অভয়ারণ্যের সভাপতি নাঈমুল ফারাবী বলেন, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের জিআই পণ্যগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরা। আয়োজনটি সফল করতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জেলা ছাত্রকল্যাণ সংগঠনসহ সামাজিক সংগঠনগুলো সার্বিক সহযোগিতা করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলার যে-সব পণ্য নিজস্ব পরিচয়ে পরিচিত, সেগুলো এখানে এনে প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় ঘুরে এসব পণ্যের স্বাদ নেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বসেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত পণ্য উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এটিকে তিনি বড় একটি অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন, যা শিক্ষার্থীরাও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।