
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব এবার পড়েছে নৌপরিবহন খাতেও। বাসভাড়ার পর এবার লঞ্চের যাত্রীভাড়াও পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার, ফলে নদীপথে ভ্রমণ ব্যয় আরও বেড়ে গেল।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখা থেকে বুধবার (৬ মে) জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন ভাড়া হার ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়েছে, যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কিলোমিটারভিত্তিক ভাড়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা কার্যকর হয়েছে মঙ্গলবার থেকেই।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে জনপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ১৮ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়েছে, যা ১৪ পয়সা বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এছাড়া সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ন্যূনতম ভাড়া ছিল ২৯ টাকা, তা এখন ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভাড়া বৃদ্ধির হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম ১০০ কিলোমিটারে ভাড়া প্রায় ৬.৫ শতাংশ এবং তার বেশি দূরত্বে প্রায় ৫.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌ রুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধি ২৭ অনুযায়ী সরকার এই ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাতে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাব এখন পরিবহন খাতের প্রতিটি স্তরে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 























