
দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে ওঠা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফয়সাল তালুকদার অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্তত ১৮টিরও বেশি মামলার এই আলোচিত আসামিকে রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার (৭ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮ ও র্যাব-৪-এর একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত ফয়সাল তালুকদার (৩৫) মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের কালাই সরদারের চর গ্রামের বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ফয়সাল তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে কালকিনির অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। সাধারণ মানুষ তার নাম শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন। এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে তিনি বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ছিনতাই ও সশস্ত্র মহড়া চালাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ফয়সালের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, চুরি, মারধর ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে ১৮টিরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত চারটি মামলায় আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।
সম্প্রতি কালকিনিতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ফয়সালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার পর অভিযুক্তের ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপের মুখে ভুক্তভোগী পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে নানা মহলে প্রতিবাদ শুরু হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কারণে ফয়সাল ছিল কার্যত “ধরাছোঁয়ার বাইরে”। একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। সে কৌশলে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে অবস্থান পরিবর্তন করতো।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন,
“ফয়সাল তালুকদার অত্যন্ত চতুর ও দুর্ধর্ষ অপরাধী। তাকে গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল। অবশেষে র্যাবের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
ফয়সালের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তির আবহ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণের খবরও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু গ্রেফতারেই থেমে থাকলে চলবে না; তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, সহযোগী ও আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলোর নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এমন দুর্ধর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানকে তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সৈয়দ নুর আহছান 

























