ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

“চলনবিলের সোহাগ “

  • কবির সরকারঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:০৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ১২৬৬ Time View

সংগৃহীত ছবি।

“চলনবিলের সোহাগ ”
সোহাগ ছেলেটার বাড়ি চলনবিলে,

তাদের ছয়মাস কাটে ধানে আর বাকি ছয়মাস পানিতে, নৌকা আর মাছে। তাগড়া জোয়ান সোহাগের বয়স তখন ২৫। যখন চলনবিলে ভরপুর পানি আসে, তখন খুব সকালে উঠে মাছ ধরতে বের হত,একদম খুব সকালে।তারপর বড় নৌকায় মাঝিদের সহকারী হিসেবে কাজ করত।পর্যটকদের নৌকায় করে চলনবিল ঘুরে দেখাতো। চলনবিলের পানির মধ্যে তাদের গ্রাম ছিলো।পানির সময় নৌকা ছাড়া তারা চলাফেরা করতে পারতো না।
সারাদিন মাছ ধরা শেষে, যে যার বাজার করে গ্রামে ফিরতো, গ্রামের দোকানের মোড়ে বসে আড্ডা দিত। চা, পান, বিড়ি, লুডু, তাস খেলাসহ হরেক রকমের বিনোদন।সোহাগ ও সেই আড্ডায় অংশ নিত।

পাশের গ্রামের এক বড়লোকের মেয়ের সাথে তার প্রেম ছিলো। কিন্তু মেয়ের বাবা সব জানতে পেরে অন্যজায়গায় এক বড়লোক ছেলে পেয়ে মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দেয়।এতে সোহাগ মানুষিক ভাবে ভেঙে পড়ে এবং কষ্ট পাই।আবার নিয়মিত মাছ ধরে তার জীবিকা নির্বাহ শুরু হয়।তারপর সোহাগ পুরোনো নৌকাটা বাদ দিয়ে অনেক টাকা দিয়ে নতুন একটা নৌকা নিয়ে আসে।
আস্তে আস্তে সোহাগের মন ভালো হতে থাকে।

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার নতুন নৌকাটা চুরি হয়ে গেছে। তার খুব মন খুব খারাপ হয়, সে প্রচুর কান্না করে।তারপর অন্যের নৌকায় পর্যটকদের চলনবিল দেখানোর কাজটা আবার শুরু করে।
এই চলনবিলের জীবন যেমন সুখের, আবার অনেক কষ্টের। এখানে হাসি আনন্দের পাশাপাশি অনেক বেদনার গল্প আছে।একদিন ঢাকা থেকে পর্যটক আসে সোহাগ তাদের নৌকায় নিয়ে চলনবিল দেখানোর সময় নৌকা থেকে দুই তিনজন পানিতে পড়ে যায়।

প্রচুর স্রোত ছিলো, সোহাগ নৌকা থেকে লাফ দিয়ে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে।সেই তিনজন বেঁচে ফিরে কিন্তু সোহাগ আর ফিরে আসে না।পরে অনেক সন্ধান শেষে তার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

সোহাগের বাবা মা, গ্রামবাসী বিষয়টা মেনে নিতে পারছিলো না,,চলনবিলের সোহাগদের জীবনগুলো কেন এমন?
যদি সোহাগের নৌকাটা চুরি না হত,যদি তার পছন্দের মানুষকে সে বিয়ে করতে পারতো, তাহলে কি ভালো হত না। তাইতো কবির ভাষায় বলতে ইচ্ছে হয়,”ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,পুর্নিমার চাঁদ যেন ঝোলসানো রুটি,,

 

লেখক, কবির সরকার।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

“চলনবিলের সোহাগ “

প্রকাশের সময়ঃ ১০:০৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

“চলনবিলের সোহাগ ”
সোহাগ ছেলেটার বাড়ি চলনবিলে,

তাদের ছয়মাস কাটে ধানে আর বাকি ছয়মাস পানিতে, নৌকা আর মাছে। তাগড়া জোয়ান সোহাগের বয়স তখন ২৫। যখন চলনবিলে ভরপুর পানি আসে, তখন খুব সকালে উঠে মাছ ধরতে বের হত,একদম খুব সকালে।তারপর বড় নৌকায় মাঝিদের সহকারী হিসেবে কাজ করত।পর্যটকদের নৌকায় করে চলনবিল ঘুরে দেখাতো। চলনবিলের পানির মধ্যে তাদের গ্রাম ছিলো।পানির সময় নৌকা ছাড়া তারা চলাফেরা করতে পারতো না।
সারাদিন মাছ ধরা শেষে, যে যার বাজার করে গ্রামে ফিরতো, গ্রামের দোকানের মোড়ে বসে আড্ডা দিত। চা, পান, বিড়ি, লুডু, তাস খেলাসহ হরেক রকমের বিনোদন।সোহাগ ও সেই আড্ডায় অংশ নিত।

পাশের গ্রামের এক বড়লোকের মেয়ের সাথে তার প্রেম ছিলো। কিন্তু মেয়ের বাবা সব জানতে পেরে অন্যজায়গায় এক বড়লোক ছেলে পেয়ে মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দেয়।এতে সোহাগ মানুষিক ভাবে ভেঙে পড়ে এবং কষ্ট পাই।আবার নিয়মিত মাছ ধরে তার জীবিকা নির্বাহ শুরু হয়।তারপর সোহাগ পুরোনো নৌকাটা বাদ দিয়ে অনেক টাকা দিয়ে নতুন একটা নৌকা নিয়ে আসে।
আস্তে আস্তে সোহাগের মন ভালো হতে থাকে।

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার নতুন নৌকাটা চুরি হয়ে গেছে। তার খুব মন খুব খারাপ হয়, সে প্রচুর কান্না করে।তারপর অন্যের নৌকায় পর্যটকদের চলনবিল দেখানোর কাজটা আবার শুরু করে।
এই চলনবিলের জীবন যেমন সুখের, আবার অনেক কষ্টের। এখানে হাসি আনন্দের পাশাপাশি অনেক বেদনার গল্প আছে।একদিন ঢাকা থেকে পর্যটক আসে সোহাগ তাদের নৌকায় নিয়ে চলনবিল দেখানোর সময় নৌকা থেকে দুই তিনজন পানিতে পড়ে যায়।

প্রচুর স্রোত ছিলো, সোহাগ নৌকা থেকে লাফ দিয়ে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে।সেই তিনজন বেঁচে ফিরে কিন্তু সোহাগ আর ফিরে আসে না।পরে অনেক সন্ধান শেষে তার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

সোহাগের বাবা মা, গ্রামবাসী বিষয়টা মেনে নিতে পারছিলো না,,চলনবিলের সোহাগদের জীবনগুলো কেন এমন?
যদি সোহাগের নৌকাটা চুরি না হত,যদি তার পছন্দের মানুষকে সে বিয়ে করতে পারতো, তাহলে কি ভালো হত না। তাইতো কবির ভাষায় বলতে ইচ্ছে হয়,”ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,পুর্নিমার চাঁদ যেন ঝোলসানো রুটি,,

 

লেখক, কবির সরকার।