
রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুনভাবে মেরামত করার প্রয়োজন রয়েছে। এ কাজে সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলাম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠক, নির্মাতা ও বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংসদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠক মোহাম্মদ নূরউল্লাহসহ অন্যান্য অতিথিরা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বয়স এখন ৫৫ বছর। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের উত্থান, অর্জন, সংকট ও নানা চ্যালেঞ্জের সময়গুলো এ প্রজন্ম খুব কাছ থেকে দেখেছে। এসব অভিজ্ঞতা জাতিকে আরও সচেতন ও প্রজ্ঞাবান করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে যেমন গৌরবের অধ্যায় রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা দুঃসময় ও বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতাও। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও মানবিক করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
চলচ্চিত্রকে সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি বিশেষ করে চলচ্চিত্র মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনে মেধাবী ও সচেতন মানুষদের সম্পৃক্ততা রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক দিক।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য যতটুকু পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে এ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
চলচ্চিত্রকর্মীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ তৈরি হবে, তা যেন শুধু চলচ্চিত্র আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং সেই উদ্যোগ সমাজ পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক সংস্কৃতি গঠনের আন্দোলনে পরিণত হয়— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তারা দেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের বর্তমান অবস্থা, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ, বিকল্পধারার চলচ্চিত্র চর্চা এবং সাংস্কৃতিক জাগরণ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। তারা চলচ্চিত্রকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 























