
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের আগুন নিয়ে বিপজ্জনক খেলায় মেতে ওঠার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা আগুন জ্বালিয়ে খেলায় ব্যস্ত থাকলেও দায়িত্বশীল শিক্ষকদের মধ্যে দেখা যায়নি প্রয়োজনীয় সতর্কতা বা তৎপরতা।
রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ২১৩ নম্বর শিকারপুর টোলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা আতঙ্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পড়ে থাকা শুকনো পাতা, কাগজ ও আবর্জনা জড়ো করে আগুন জ্বালিয়েছে। কেউ আগুনে লাঠি নাড়ছে, কেউ আবার আগুন ঘিরে খেলায় মেতে উঠেছে। অথচ আশপাশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয় হচ্ছে শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার স্থান। সেখানে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা আগুন নিয়ে খেলবে আর শিক্ষকরা উদাসীন থাকবেন—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের ভাষ্য, সামান্য অসাবধানতা থেকেই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড কিংবা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্কুলে সন্তানদের নিরাপদে রাখার দায়িত্ব শিক্ষকদের। অথচ সেখানে যদি শিশুরাই আগুন জ্বালিয়ে খেলে, তাহলে অভিভাবকরা কোথায় ভরসা পাবেন?”
আরও অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারের সম্ভাব্য পরিদর্শনকে সামনে রেখে বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে শিক্ষার্থীদের দিয়েই শুকনো পাতা ও ময়লা-আবর্জনায় আগুন ধরানো হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা এমন নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন,
“আমি সহকারী শিক্ষককে বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার পরিদর্শনে আসতে পারেন শুনে পরিষ্কার করতে বলেছি। কিন্তু আমি আগুন দিতে বলিনি। যেভাবে আগুন লাগানো হয়েছে, তা খুবই ভয়াবহ। বাচ্চাদের এভাবে আগুন নিয়ে খেলাটা মোটেই উচিত হয়নি।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের ভেতরে শিশুদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চললেও শিক্ষকরা কেন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিলেন না? শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারতো বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার অহেদুজ্জামান বলেন,
“প্রথমত, ওই বিদ্যালয়ে আমার যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। আমি অন্য একটি বিদ্যালয়ে ছিলাম। তারা হয়তো কোনোভাবে বিষয়টি জেনেছে। বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য আমি কাউকে নির্দেশ দিইনি। শিশুদের দিয়ে আগুন লাগানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোশাব্বির হোসেন খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো।”
ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল বিদ্যালয়গুলোতে শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামান্য অবহেলাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা উচিত নয়।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 
























