ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় প্রতিহত

নওগাঁর আদাতলা সীমান্তে বিজিবির টহল দল পুশ-ইন প্রতিহত করে

নওগাঁর আদাতলা সীমান্তে আবারও বাংলাদেশে লোকজনকে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)—এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির তৎপরতায় ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৩ জন শিশুসহ মোট ৯ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি এবং তারা শূন্য লাইনের মধ্যেই অবস্থান করছেন।

বুধবার (২৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীন আদাতলা বর্ডার অবজার্ভেশন পোস্ট (বিওপি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আদাতলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্থানরত ওই ব্যক্তিদের শনাক্ত করে।

পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেন এবং সীমান্তে কঠোর অবস্থান নেন। ফলে বিএসএফের কথিত পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হয়নি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ওই ৯ জন এখনও দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্য লাইনের ভেতরে অবস্থান করছেন।

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনিয়মিত প্রবেশ বা পুশ-ইনের অভিযোগ দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সংবেদনশীল বিষয়। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক, তথ্য যাচাই এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি আইনানুগ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলেও বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় প্রতিহত

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:৪২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নওগাঁর আদাতলা সীমান্তে আবারও বাংলাদেশে লোকজনকে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)—এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির তৎপরতায় ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৩ জন শিশুসহ মোট ৯ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি এবং তারা শূন্য লাইনের মধ্যেই অবস্থান করছেন।

বুধবার (২৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীন আদাতলা বর্ডার অবজার্ভেশন পোস্ট (বিওপি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আদাতলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্থানরত ওই ব্যক্তিদের শনাক্ত করে।

পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেন এবং সীমান্তে কঠোর অবস্থান নেন। ফলে বিএসএফের কথিত পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হয়নি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ওই ৯ জন এখনও দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্য লাইনের ভেতরে অবস্থান করছেন।

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনিয়মিত প্রবেশ বা পুশ-ইনের অভিযোগ দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সংবেদনশীল বিষয়। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক, তথ্য যাচাই এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি আইনানুগ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলেও বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।