ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাত ৮টায় বন্ধ হবে শপিংমল, সন্ধ্যা ৭টায় নিভবে আলোকসজ্জা বেরোবিতে ৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান কমিটিতেই বিতর্কিত সদস্য ইবিতে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ভ্যানচালক গ্রেপ্তার জাতীয় পলিসি ক্যাম্পে সুযোগ পেলেন বেরোবি শিক্ষার্থী আইরিন ময়মনসিংহে মিরান হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাফিজুর গ্রেফতার নাটোরে পালিত হলো ফজলুর রহমানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী বিশেষজ্ঞশূন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে- চিকিৎসা নিতে ছুটতে হচ্ছে রাজশাহী আটঘরিয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল পেট্রল পাম্প ও ওষুধের দোকান কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল দুর্বৃত্তরা, ভিডিও ভাইরাল সারা বছর ধরেই চলবে মৃত ভোটার কর্তন কার্যক্রম-পরিকল্পনা ইসির

মামলা তদন্তাধীন থাকলেও বেবিচকের ২ কর্মকর্তাকে দুদকের ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০১:১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৪৫ Time View

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয় ফাইল ছবি।

দুর্নীতির মামলা তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই কর্মকর্তাকে ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ প্রদান করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই। অথচ দুদকের নিজস্ব নথি অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

দুদকের এই চিঠির ভিত্তিতে ইতিমধ্যে দুই কর্মকর্তার একজন পদোন্নতিও পেয়েছেন, যা নিয়ে দুদকের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভুলবশত নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, বেবিচকের সিভিল সার্কেল প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুর রহমান মো. মওদুদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই মর্মে চলতি বছরের ১১ মার্চ একটি চিঠি ইস্যু করে দুদক। চিঠিটিতে স্বাক্ষর করেন দুদক পরিচালক মোহাম্মাদ নাজমুল হাসান।

চিঠিটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের সিএ-১ শাখার উপসচিবের কাছে প্রেরণ করা হয়। এর অনুলিপি পাঠানো হয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, দুদক চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, কমিশনার (তদন্ত ও অনুসন্ধান)-এর একান্ত সচিব এবং দুদক সচিবের একান্ত সচিবের কাছেও।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, দুর্নীতির মামলা থাকার কারণে ওই দুই কর্মকর্তার পদোন্নতি দীর্ঘদিন আটকে ছিল। পরবর্তীতে দুদক থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়, যার ভিত্তিতে মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

তবে দুদকের নথিপত্র বলছে ভিন্ন কথা— আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মো. মওদুদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুটি মামলা এখনো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও নতুন টার্মিনাল নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে আমিনুল হাসিবসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ জানুয়ারি মামলা দায়ের করে দুদক। কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্রয়প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করেছেন এবং প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় যোগ্যতাবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে কাজ করিয়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুর রহমান মো. মওদুদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্রয়প্রক্রিয়া লঙ্ঘন, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং যোগ্যতাবিহীন প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদানসহ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে কাজ করিয়ে সরকারের প্রায় ২১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে এই মামলায়।

উভয় মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০, ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার অফিস সময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি ভুলক্রমে নাকি সচেতনভাবে ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা তদন্তাধীন থাকার বিষয়টি বেবিচক কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হবে।

দুদকের একাধিক নথিতে মামলা তদন্তাধীন থাকার তথ্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিপরীত প্রত্যয়নপত্র ইস্যু হলো, তা এখন খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাত ৮টায় বন্ধ হবে শপিংমল, সন্ধ্যা ৭টায় নিভবে আলোকসজ্জা

মামলা তদন্তাধীন থাকলেও বেবিচকের ২ কর্মকর্তাকে দুদকের ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’

প্রকাশের সময়ঃ ০১:১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দুর্নীতির মামলা তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই কর্মকর্তাকে ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ প্রদান করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই। অথচ দুদকের নিজস্ব নথি অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

দুদকের এই চিঠির ভিত্তিতে ইতিমধ্যে দুই কর্মকর্তার একজন পদোন্নতিও পেয়েছেন, যা নিয়ে দুদকের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভুলবশত নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, বেবিচকের সিভিল সার্কেল প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুর রহমান মো. মওদুদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই মর্মে চলতি বছরের ১১ মার্চ একটি চিঠি ইস্যু করে দুদক। চিঠিটিতে স্বাক্ষর করেন দুদক পরিচালক মোহাম্মাদ নাজমুল হাসান।

চিঠিটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের সিএ-১ শাখার উপসচিবের কাছে প্রেরণ করা হয়। এর অনুলিপি পাঠানো হয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, দুদক চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, কমিশনার (তদন্ত ও অনুসন্ধান)-এর একান্ত সচিব এবং দুদক সচিবের একান্ত সচিবের কাছেও।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, দুর্নীতির মামলা থাকার কারণে ওই দুই কর্মকর্তার পদোন্নতি দীর্ঘদিন আটকে ছিল। পরবর্তীতে দুদক থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়, যার ভিত্তিতে মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

তবে দুদকের নথিপত্র বলছে ভিন্ন কথা— আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মো. মওদুদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুটি মামলা এখনো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও নতুন টার্মিনাল নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে আমিনুল হাসিবসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ জানুয়ারি মামলা দায়ের করে দুদক। কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্রয়প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করেছেন এবং প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় যোগ্যতাবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে কাজ করিয়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুর রহমান মো. মওদুদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্রয়প্রক্রিয়া লঙ্ঘন, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং যোগ্যতাবিহীন প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদানসহ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে কাজ করিয়ে সরকারের প্রায় ২১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে এই মামলায়।

উভয় মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০, ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার অফিস সময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি ভুলক্রমে নাকি সচেতনভাবে ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা তদন্তাধীন থাকার বিষয়টি বেবিচক কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হবে।

দুদকের একাধিক নথিতে মামলা তদন্তাধীন থাকার তথ্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিপরীত প্রত্যয়নপত্র ইস্যু হলো, তা এখন খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।