
নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বারনই নদীতে আকস্মিকভাবে প্রচুর পরিমাণে মাছ ভেসে ওঠার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুঁটি, টেংরা থেকে শুরু করে বোয়ালসহ নানা প্রজাতির মাছ নদীর পানির উপরিভাগে ভেসে উঠতে দেখা গেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই নদীর একাধিক স্থানে মাছ ভেসে ওঠার এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর আশপাশের এলাকা থেকে অনেকেই নদীতে নেমে মাছ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ জাল ব্যবহার করে, আবার কেউ প্রচলিত দেশীয় পদ্ধতি অবলম্বন করে ভেসে ওঠা মাছ ধরতে থাকেন।
তবে এত বিপুল পরিমাণ মাছ হঠাৎ পানির উপর ভেসে ওঠার প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও অনুমান। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, নদীর পানিতে কোনো বিষাক্ত উপাদান মিশে যাওয়ার ফলেই মাছগুলো ভেসে উঠেছে। আবার অনেকের আশঙ্কা, পানিতে বিশেষ কোনো গ্যাসের উৎপত্তি হওয়ায় মাছেরা স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকতে পারছে না। তবে এসব অনুমানের কোনোটিই এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষভাবে প্রশ্ন উঠেছে, নদী থেকে ধরা এসব মাছ খাওয়া আদৌ নিরাপদ কি না তা নিয়ে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করতে দ্রুত বারনই নদীর পানি ও ভেসে ওঠা মাছের নমুনা সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো জরুরি। একই সঙ্গে নদী থেকে মাছ সংগ্রহের সময় মানুষের কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা জারির দাবিও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সন্তোষ কুমার এবং বাংলাদেশ বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তবে নদীতে মাছ ভেসে ওঠার পেছনে বিষক্রিয়া, গ্যাসের প্রভাব নাকি অন্য কোনো পরিবেশগত সংকট দায়ী—তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সাজেদুর রহমান, নাটোর 























