
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সেফ হোমে অবস্থানরত শিশুসহ ১৮ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বিভিন্ন মেয়াদে সেখানে আটক বা আশ্রয়ে থাকা এসব নারী, পুরুষ ও শিশুকে বুধবার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের উদ্যোগ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দেশে ফেরার আগে তাদের নাগরিকত্ব যাচাই এবং বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের ব্যবস্থা করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-১ শাখার সহকারী সচিব এস. এম. রাহাতুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ১০ সেপ্টেম্বরের এক দাপ্তরিক চিঠিতে এ বিষয়ে তথ্য জানানো হয়। কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে চিঠিটি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সেফ হোমে অবস্থানরত ১৯ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১৮ জনের নাগরিকত্ব যাচাই এবং ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় ১৯ জন থাকলেও শুভ মজুমদার ওরফে শুভ মজুমদারের পারিবারিক আবেদন এবং ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তিনি এবারের প্রত্যাবাসনে অন্তর্ভুক্ত হননি।
ফলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাকি ১৮ জনকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।
দেশে ফেরা ১৮ জনের মধ্যে রয়েছেন খুলনার সিয়াম হাওলাদার (১৪), সাতক্ষীরার নিউটন কুমার মণ্ডল (১৮), জয়কুমার মিস্ত্রি (১৭), ঠাকুরগাঁওয়ের অনুজ বেগম (৫০), গাইবান্ধার শাপলা খাতুন (২২), সাতক্ষীরার সাকিবুল সরদার (৬), নরসিংদীর আব্দুর রহমান (১৫), বরিশালের স্বপন ওঝা (৬), যশোরের সহিদ মোল্যা (৮), গোপালগঞ্জের লিমা বল্লব (১৬), সাতক্ষীরার সুমি খাতুন (২২), গোপালগঞ্জের পপি রায় (১৫), খুলনার সোনিয়া আক্তার (১৪) ও তার এক বছর বয়সী ছেলে সালমান।
এ ছাড়া খুলনার জান্নাতি বেগম (১৪), লালমনিরহাটের বনশ্রি রায় (১৬), নারায়ণগঞ্জের ইমরাত জাহান শ্রাবন্তী (১৬) এবং দিনাজপুরের মেহেদী হাসান (১৭) দেশে ফিরেছেন।
বিভিন্ন সেফ হোমে ছিলেন তারা
ফেরত আসা বাংলাদেশিরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সেফ হোমে অবস্থান করছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সিনি, কলকাতা, ধ্রুবাশ্রম, ঈশ্বর সংকল্প, পঙ্কজ আচার্য মহিলা নিবাস, কিশলয় হোম, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ও এসপিএম হোম।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, ফেরত আসা ব্যক্তিরা পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসা ছাড়া ভারত প্রবেশের পর বিভিন্ন সময়ে আটক হন। পরে বিভিন্ন মেয়াদে সেখানে অবস্থান শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফিরেছেন।
বেনাপোলে পৌঁছানোর পর তাদের গ্রহণ করেছে বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি ও যশোর রাইটস।
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সমন্বয়কারী রেখা বিশ্বাস জানান, দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের আপাতত যশোরের শেল্টার হোমে রাখা হবে। এরপর তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 
























