
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কবরস্থানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হামলার ঘটনায় আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রুবেল ঢালী (৩৮) ও লিটন ভূঁইয়া (৩৫) নামে আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের মানাখান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন ওই গ্রামের সেকেন্দার ভূঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, মানাখান গ্রামের একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে স্থানীয় জয়দুল ঢালী ও রুবেল ঢালীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটিও হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে বাজারে যাওয়ার পথে জয়দুল ঢালীর বাড়ির সামনে রুবেল ঢালীকে দেখতে পান জয়দুল ও তার লোকজন। এ সময় রুবেলের ওপর রড ও কাঠ দিয়ে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রুবেলকে রক্ষা করতে আনোয়ার হোসেন এগিয়ে গেলে তাকেও প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে গুরুতর আহত করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় রুবেল ও লিটনও আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে আনোয়ার হোসেনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
আনোয়ারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন জয়দুল ঢালীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 























