ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে এসআরবির কার্যক্রম শুরু ইসির নতুন প্রতীক তালিকা প্রকাশ, যুক্ত হলো ‘না’; মোট প্রতীক ১২০টি দীর্ঘ আড়াই বছর পর একক কনসার্টে বাপ্পা মজুমদার, মঞ্চ মাতাবেন ৯ অক্টোবর একাদশ শ্রেণির ভর্তি: প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ সিনেমা হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ৮ টিমের ‘মাঠযুদ্ধ’- বাড়ি বাড়ি এডিসের আস্তানা খুঁজবে প্রশাসন বিভিন্ন মেয়াদে আটক থাকার পর শিশুসহ ১৮ বাংলাদেশি বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরে কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, নিহত ১ ১৫ বছর পর গার্মেন্টস কর্মী সাথী হত্যা মামলায় সাবেক স্বামীসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

১৫ বছর পর গার্মেন্টস কর্মী সাথী হত্যা মামলায় সাবেক স্বামীসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৩৪ Time View

জাফলংয়ে গার্মেন্টস কর্মী রুনা আক্তার সাথী হত্যা মামলায় ১৫ বছর পর সাবেক স্বামীসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে গার্মেন্টস কর্মী রুনা আক্তার সাথীকে (১৯) হত্যার মামলায় তার সাবেক স্বামীসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তারা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গাজীপুরের জয়দেবপুর বুরুলিয়া গ্রামের নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং তার বন্ধু শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের সুজন মিয়া (২০)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত রুনা আক্তার সাথী ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আসারগাঁও এলাকার নাজমুল হক ওরফে সুলেমান হোসেনের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে বাসের হেলপার নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তারা বিয়ে করেন।

বিয়ের পর তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরে নাজমুল ওই সন্তানকে তার বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন। সন্তানকে ফিরে পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। সাথী সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সফল হননি। পরবর্তী সময়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, বিচ্ছেদের পরও গার্মেন্টসে যাতায়াতের পথে নাজমুল সাথীকে বিরক্ত করতেন। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে সাথীকে সিলেটে নিয়ে আসেন তিনি।

সিলেট রেলস্টেশনে রাত কাটানোর পর পরদিন সাথীকে জাফলংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকার একটি নির্জন স্থানে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পর ১৫ মে সাথীর বাবা গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ নাজমুল হাসান খানকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তিনি ও তার বন্ধু মিলে সাথীকে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দেন।

২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল ও সুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে নাজমুল জামিনে বেরিয়ে যান।

মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি আল আসলাম মুমিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফারহানা হাবিব চৌধুরী।

জনপ্রিয় সংবাদ

র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে এসআরবির কার্যক্রম শুরু

১৫ বছর পর গার্মেন্টস কর্মী সাথী হত্যা মামলায় সাবেক স্বামীসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে গার্মেন্টস কর্মী রুনা আক্তার সাথীকে (১৯) হত্যার মামলায় তার সাবেক স্বামীসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তারা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গাজীপুরের জয়দেবপুর বুরুলিয়া গ্রামের নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং তার বন্ধু শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের সুজন মিয়া (২০)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত রুনা আক্তার সাথী ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আসারগাঁও এলাকার নাজমুল হক ওরফে সুলেমান হোসেনের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে বাসের হেলপার নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তারা বিয়ে করেন।

বিয়ের পর তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরে নাজমুল ওই সন্তানকে তার বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন। সন্তানকে ফিরে পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। সাথী সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সফল হননি। পরবর্তী সময়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, বিচ্ছেদের পরও গার্মেন্টসে যাতায়াতের পথে নাজমুল সাথীকে বিরক্ত করতেন। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে সাথীকে সিলেটে নিয়ে আসেন তিনি।

সিলেট রেলস্টেশনে রাত কাটানোর পর পরদিন সাথীকে জাফলংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকার একটি নির্জন স্থানে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পর ১৫ মে সাথীর বাবা গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ নাজমুল হাসান খানকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তিনি ও তার বন্ধু মিলে সাথীকে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দেন।

২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল ও সুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে নাজমুল জামিনে বেরিয়ে যান।

মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি আল আসলাম মুমিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফারহানা হাবিব চৌধুরী।