
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, একটি সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এর মাধ্যমে সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা সম্ভব। প্রতিটি চলচ্চিত্রই মানুষের চিন্তা ও মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, একটা সময় সিনেমা কথা বলত। মানুষ সিনেমা চোখ দিয়ে দেখলেও এর বক্তব্য হৃদয়ে গেঁথে থাকত। ববিতা অভিনীত একটি চলচ্চিত্রের সংলাপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটাই ক্লাস’—সেই সময় ওই বক্তব্যের গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল, যা এখন আরও উপলব্ধি করা যায়।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সিনেমাই একটি বড় বার্তা বহন করতে পারে। চলচ্চিত্র শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মিত হবে এমন নয়; বরং প্রতিটি সিনেমায় কোনো না কোনো সামাজিক বক্তব্য থাকা উচিত।
মরহুম হোসেনের নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাঁর প্রায় প্রতিটি সিনেমাতেই কোনো না কোনো বার্তা ছিল। ভবিষ্যতে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন, যেগুলো আবারও মানুষের সঙ্গে কথা বলবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্তমান সমাজের বিভিন্ন সমস্যার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতের চলচ্চিত্র নির্মাণের সময়কার বাস্তবতা এবং বর্তমান সময়ের বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে সমাজ নানা ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
তরুণ প্রজন্মের মাদকাসক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ তরুণ মাদকে আসক্ত—এটি সমাজ ও দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি।
আন্দালিব রহমান বলেন, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজকদের আরও উৎসাহিত করতে হবে। সিনেমাকে সমাজ ও মানুষের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
দেশীয় চলচ্চিত্রকে আগের ঐতিহ্যের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তিনি নতুন দায়িত্বে এসেছেন এবং এরই মধ্যে সবার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন ও কাজ করছেন। স্টেট মিনিস্টার, উপদেষ্টা, পরিচালক, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রের অন্যান্য কলাকুশলীরা একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারও পুরোনো ঐতিহ্যের জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য দেবাশীষ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল।
চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পরিচালক কাজী হায়াত, সোহেল রানা, মতিন রহমান, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, আবু মুসা দেবু, মহিউদ্দিন শাকের, আবুল খায়ের বুলবুল ও আওকাত হোসেনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনও সম্মাননা গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া দুই শতাধিক চলচ্চিত্র প্রযোজনার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি 






















