ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা আটক- পলাতক বাবা লুট হওয়া জামায়াতের ৯ মোটরসাইকেল বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেনের ছাদে দুই ব্যক্তি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিনিয়র সাংবাদিক জহির এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে আর ‘দুই দিন’ সময় লাগতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় যুব দলের দোয়া মাহফিল “স্বেচ্ছায় বিবাহ, তবুও  অপহরণ মামলা-নিরাপত্তা চেয়ে  ইসরাত খাতুন”র সংবাদ সম্মেলন ৮ দল আমাদের আর ৮ দল থাকছে না- আরও অনেক দল জোট করার আবেদন করছে- গোলাম পরওয়ার

সংঘাতে জড়াতে চাই না, সেবা দিতে চাই-ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। ছবি- সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘যদি আমার অফিসারদের মনোবল ঠিক না থাকে, ৫ আগস্টের পর যেভাবে ৮০ বছরের বৃদ্ধ লাঠি হাতে নিয়ে মহল্লা পাহারা দিয়েছেন, ঠিক সেভাবে আবার পাহারা দিতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে সাজ্জাত আলী এ কথা বলেন।

সাম্প্রতিক অরাজকতা প্রতিরোধের সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ যখন একটি অরাজকতা ঠেকানোর, প্রতিহতের চেষ্টা করছিল, তখন আমার অফিসারদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা হয়েছে? অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার অফিসারদের সঙ্গে আপনারা খারাপ ব্যবহার করবেন না। আমরা সংঘাতে জড়াতে চাই না। আমরা সেবা দিতে চাই। আপনারা যে কাজটি করতে চাচ্ছিলেন, সেটি করলে সমাজে, ঢাকা শহরে, দেশে একটা অরাজকতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হবে।’

সাজ্জাত আলী বলেন, একটি গণ-অভ্যুত্থান হয়ে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এখন যদি একই ধরনের কার্যকলাপ দেখা যায়, তা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। এ জন্যই পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু তাঁদের প্রতি এমন আচরণ কোনো শিক্ষিত, সচেতন মানুষের কাছ থেকে তাঁরা আশা করেন না।

পল্লবী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্যের আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, ‘আমার নিরপরাধ অফিসারকে যেভাবে ককটেল মেরে আহত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে আমার সদস্যদের মনোবল ভেঙে যায় এবং এই পরিস্থিতির ক্ষতি সবাইকেই ভোগ করতে হয়। যদি আমার অফিসারদের মনোবল ঠিক না থাকে, ৫ আগস্টের পরে যেভাবে ৮০ বছরের বৃদ্ধ লাঠি হাতে নিয়ে মহল্লা পাহারা দিয়েছেন, ঠিক সেভাবে আবার পাহারা দিতে হবে।’

সাজ্জাত আলী বলেন, যাঁরা ককটেল ছোড়া বা এ ধরনের দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ, এই কাজ করবেন না।

গুলির নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘এটা পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা নয়, এটা দেশের আইন। আইন আমি বানাই না, পার্লামেন্ট বানায়। আপনারা আইনটা দেখেন। পুলিশের কাজের আইনে যা বলা আছে, আমি শুধু সেটাই অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছি।’

দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক সক্ষমতা গড়ে তুলতেই ডিবির সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানান সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, নতুন সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে থাকবে আধুনিক প্রযুক্তিযুক্ত ল্যাব, দক্ষ তদন্তকারী দল, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ২৪ ঘণ্টার রেসপন্স টিম। ফেসবুক পেজ, ই–মেইল ও ডিবির অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে নাগরিকেরা সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবেন। লক্ষ্য হলো, প্রযুক্তিনির্ভর, সময়োপযোগী ও প্রমাণভিত্তিক পুলিশ সেবা নিশ্চিত করা।

শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, বর্তমান সময়ে অনলাইন জালিয়াতি, প্রতারণা, ডিজিটাল হয়রানি, মানহানি, অনলাইন গ্যাম্বেলিং—এসব অপরাধ মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষাকে গভীরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই জনগণের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ডিএমপি তার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

নারী ও কিশোরদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাইবার সাপোর্ট সেন্টার কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী ও কিশোরদের হয়রানির অভিযোগ দ্রুত সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ থাকবে। হয়রানির শিকার হলে যাতে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়, সেটাই হবে অন্যতম অঙ্গীকার।

সাইবার নিরাপত্তা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয় বলে উল্লেখ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর

সংঘাতে জড়াতে চাই না, সেবা দিতে চাই-ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘যদি আমার অফিসারদের মনোবল ঠিক না থাকে, ৫ আগস্টের পর যেভাবে ৮০ বছরের বৃদ্ধ লাঠি হাতে নিয়ে মহল্লা পাহারা দিয়েছেন, ঠিক সেভাবে আবার পাহারা দিতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে সাজ্জাত আলী এ কথা বলেন।

সাম্প্রতিক অরাজকতা প্রতিরোধের সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ যখন একটি অরাজকতা ঠেকানোর, প্রতিহতের চেষ্টা করছিল, তখন আমার অফিসারদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা হয়েছে? অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার অফিসারদের সঙ্গে আপনারা খারাপ ব্যবহার করবেন না। আমরা সংঘাতে জড়াতে চাই না। আমরা সেবা দিতে চাই। আপনারা যে কাজটি করতে চাচ্ছিলেন, সেটি করলে সমাজে, ঢাকা শহরে, দেশে একটা অরাজকতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হবে।’

সাজ্জাত আলী বলেন, একটি গণ-অভ্যুত্থান হয়ে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এখন যদি একই ধরনের কার্যকলাপ দেখা যায়, তা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। এ জন্যই পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু তাঁদের প্রতি এমন আচরণ কোনো শিক্ষিত, সচেতন মানুষের কাছ থেকে তাঁরা আশা করেন না।

পল্লবী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্যের আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, ‘আমার নিরপরাধ অফিসারকে যেভাবে ককটেল মেরে আহত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে আমার সদস্যদের মনোবল ভেঙে যায় এবং এই পরিস্থিতির ক্ষতি সবাইকেই ভোগ করতে হয়। যদি আমার অফিসারদের মনোবল ঠিক না থাকে, ৫ আগস্টের পরে যেভাবে ৮০ বছরের বৃদ্ধ লাঠি হাতে নিয়ে মহল্লা পাহারা দিয়েছেন, ঠিক সেভাবে আবার পাহারা দিতে হবে।’

সাজ্জাত আলী বলেন, যাঁরা ককটেল ছোড়া বা এ ধরনের দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ, এই কাজ করবেন না।

গুলির নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘এটা পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা নয়, এটা দেশের আইন। আইন আমি বানাই না, পার্লামেন্ট বানায়। আপনারা আইনটা দেখেন। পুলিশের কাজের আইনে যা বলা আছে, আমি শুধু সেটাই অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছি।’

দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক সক্ষমতা গড়ে তুলতেই ডিবির সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানান সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, নতুন সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে থাকবে আধুনিক প্রযুক্তিযুক্ত ল্যাব, দক্ষ তদন্তকারী দল, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ২৪ ঘণ্টার রেসপন্স টিম। ফেসবুক পেজ, ই–মেইল ও ডিবির অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে নাগরিকেরা সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবেন। লক্ষ্য হলো, প্রযুক্তিনির্ভর, সময়োপযোগী ও প্রমাণভিত্তিক পুলিশ সেবা নিশ্চিত করা।

শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, বর্তমান সময়ে অনলাইন জালিয়াতি, প্রতারণা, ডিজিটাল হয়রানি, মানহানি, অনলাইন গ্যাম্বেলিং—এসব অপরাধ মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষাকে গভীরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই জনগণের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ডিএমপি তার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

নারী ও কিশোরদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাইবার সাপোর্ট সেন্টার কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী ও কিশোরদের হয়রানির অভিযোগ দ্রুত সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ থাকবে। হয়রানির শিকার হলে যাতে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়, সেটাই হবে অন্যতম অঙ্গীকার।

সাইবার নিরাপত্তা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয় বলে উল্লেখ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।