ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ তাহসিফ হত্যা মামলা: দীপকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চলবে: তথ্য উপদেষ্টা ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী মজুরি কমিশন গঠন হয়েছে, এখন আন্দোলনের সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার চেষ্টা, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, সতর্ক বিএনপি নেতাকর্মীরাও মিরপুর-১১-তে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, যান চলাচল স্বাভাবিক; আটক ৪ এইচএসসিতে শূন্য পাস ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে, শাস্তির মুখে শিক্ষক-প্রতিষ্ঠানপ্রধান গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১

চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা

ছবি-রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা দেওয়ার আগে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যেই রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা চেয়ারম্যানকে ফ্যাসিবাদের ‘দোসর ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভও করেছেন। চেয়ারম্যান এম এফ মাজেদুল উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হকের নিকটাত্মীয়। তিনি ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি পরিষদে অনুপস্থিত ছিলেন এবং পরে গ্রেপ্তারও হন।ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনের কর্মকর্তা আবদুল বারিক জানান, “গত রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার সংক্রান্ত একটি চিঠি নিয়ে মাজেদুল পরিষদে আসেন। ইউপি সদস্যদের ডেকে একটি সভার আয়োজন করা হয়, এতে সাতজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরে চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।”প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী ইউপি কার্যালয়ে যান। তারা চেয়ারম্যান মাজেদুলের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেন এবং পরিষদের সামনে সংক্ষিপ্ত সভা আয়োজন করেন। এতে বক্তব্য দেন যোগীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সানাউল্লাহ, সাত নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি লুৎফর রহমান এবং স্বেচ্ছাসেবক ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সাহাবুর রহমান প্রমুখ।বক্তারা দাবি করেন, মাজেদুল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর। তাদের অভিযোগ, তিনি ভোটারদের আটকে রেখে কারচুপির মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে ঘুমাতে দেননি এবং পুলিশকে ব্যবহার করে হয়রানি করেছেন। তারা জানান, তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে মানবেন না।বিক্ষোভ শেষে আন্দোলনকারীরা চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় লোকজন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝে দেওয়ার রেজল্যুশনের খাতা কেড়ে নেন এবং সাত সদস্যের স্বাক্ষরিত পাতাও ছিঁড়ে ফেলে। পরে বিকেলে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও’র কাছে আবেদন করেছেন।ইউএনওর চিঠিতে বলা হয়েছে, এম এফ মাজেদুলের গ্রেপ্তারের পর যোগীপাড়া ইউপির কার্যক্রম চালানোর জন্য প্যানেল চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাজেদুল উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন এবং পরে তাঁকে দায়িত্ব বুঝে দেওয়ার রায় দেন আদালত।এ বিষয়ে মাজেদুল বলেন, “আমি আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব ফিরে পেয়েছি। আমি চলে আসার পরই কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “আমি ঘটনাটি জেনেছি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মশারি দিল জেলা পরিষদ

চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:২৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

উচ্চ আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যেই রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা চেয়ারম্যানকে ফ্যাসিবাদের ‘দোসর ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভও করেছেন। চেয়ারম্যান এম এফ মাজেদুল উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হকের নিকটাত্মীয়। তিনি ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি পরিষদে অনুপস্থিত ছিলেন এবং পরে গ্রেপ্তারও হন।ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনের কর্মকর্তা আবদুল বারিক জানান, “গত রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার সংক্রান্ত একটি চিঠি নিয়ে মাজেদুল পরিষদে আসেন। ইউপি সদস্যদের ডেকে একটি সভার আয়োজন করা হয়, এতে সাতজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরে চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।”প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী ইউপি কার্যালয়ে যান। তারা চেয়ারম্যান মাজেদুলের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেন এবং পরিষদের সামনে সংক্ষিপ্ত সভা আয়োজন করেন। এতে বক্তব্য দেন যোগীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সানাউল্লাহ, সাত নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি লুৎফর রহমান এবং স্বেচ্ছাসেবক ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সাহাবুর রহমান প্রমুখ।বক্তারা দাবি করেন, মাজেদুল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর। তাদের অভিযোগ, তিনি ভোটারদের আটকে রেখে কারচুপির মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে ঘুমাতে দেননি এবং পুলিশকে ব্যবহার করে হয়রানি করেছেন। তারা জানান, তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে মানবেন না।বিক্ষোভ শেষে আন্দোলনকারীরা চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় লোকজন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝে দেওয়ার রেজল্যুশনের খাতা কেড়ে নেন এবং সাত সদস্যের স্বাক্ষরিত পাতাও ছিঁড়ে ফেলে। পরে বিকেলে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও’র কাছে আবেদন করেছেন।ইউএনওর চিঠিতে বলা হয়েছে, এম এফ মাজেদুলের গ্রেপ্তারের পর যোগীপাড়া ইউপির কার্যক্রম চালানোর জন্য প্যানেল চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাজেদুল উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন এবং পরে তাঁকে দায়িত্ব বুঝে দেওয়ার রায় দেন আদালত।এ বিষয়ে মাজেদুল বলেন, “আমি আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব ফিরে পেয়েছি। আমি চলে আসার পরই কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “আমি ঘটনাটি জেনেছি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”