ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

রাজনীতিকে ‘বিরাজনীতি’ করতে তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি- মিলন

দেশের রাজনীতিকে পরিকল্পিতভাবে বিরাজনীতিকরণ করার লক্ষ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দীর্ঘ আঠারো বছর দেশে আসতে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

রোববার  বেলা ১১টায় রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার একটি হলরুমে পবা-মোহনপুর (রাজশাহী-৩) ছাত্রদলের আয়োজনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিলন বলেন, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিস্ট চক্র ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সে সময় ‘মাইনাস টু’ বলা হলেও বাস্তবে ‘মাইনাস ওয়ান’ ফরমুলা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে আটক করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তারেক রহমানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় প্যারোলে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাকে দেশে ফিরতে বাধা দিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১০০টিরও বেশি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দেওয়া হয়, এমনকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। তার পাসপোর্ট আটকে রেখে পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্বাসনে রাখা হয়।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে মিলন বলেন, গত ১৭ বছরে গুম, খুন, গায়েবি মামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠুভাবে পড়াশোনা করতে পারেনি, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ সময় প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

মিলন বলেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ৩৬ জুলাই গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এই আন্দোলনে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কারণেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ সুগম হয় এবং চলতি মাসের ২৫ তারিখ তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান পদবীর চেয়ে ‘ছাত্রদলের নেতা’ পরিচয়টাই তার কাছে বেশি গর্বের। ছাত্রদলকে সুসংগঠিত ও প্রশিক্ষিত করে তুলতে তারেক রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় এ ধরনের কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

মিলন আরও বলেন, জনগণের কাতারে থাকতে হলে জবাবদিহিতা অপরিহার্য, আর জবাবদিহিতার মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন ২০২০-২০৩০ এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ২৭ দফা ও পরবর্তীতে উন্নীত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে ঘুণে ধরা রাষ্ট্রকে সচল করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আলোকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার যৌক্তিকতা ভোটারদের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পবা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলামিনের সভাপতিত্বে ও মোহনপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামিম সরকারসহ কেন্দ্র ও জেলার একাধিক ছাত্রদল নেতা।

এসময় পবা, মোহনপুর, নওহাটা, কাটাখালি ও কেশরহাট পৌরসভাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতিকে ‘বিরাজনীতি’ করতে তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি- মিলন

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:৪২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের রাজনীতিকে পরিকল্পিতভাবে বিরাজনীতিকরণ করার লক্ষ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দীর্ঘ আঠারো বছর দেশে আসতে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

রোববার  বেলা ১১টায় রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভার একটি হলরুমে পবা-মোহনপুর (রাজশাহী-৩) ছাত্রদলের আয়োজনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিলন বলেন, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিস্ট চক্র ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সে সময় ‘মাইনাস টু’ বলা হলেও বাস্তবে ‘মাইনাস ওয়ান’ ফরমুলা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে আটক করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তারেক রহমানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় প্যারোলে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাকে দেশে ফিরতে বাধা দিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১০০টিরও বেশি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দেওয়া হয়, এমনকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। তার পাসপোর্ট আটকে রেখে পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্বাসনে রাখা হয়।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে মিলন বলেন, গত ১৭ বছরে গুম, খুন, গায়েবি মামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠুভাবে পড়াশোনা করতে পারেনি, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ সময় প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

মিলন বলেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ৩৬ জুলাই গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এই আন্দোলনে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কারণেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ সুগম হয় এবং চলতি মাসের ২৫ তারিখ তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান পদবীর চেয়ে ‘ছাত্রদলের নেতা’ পরিচয়টাই তার কাছে বেশি গর্বের। ছাত্রদলকে সুসংগঠিত ও প্রশিক্ষিত করে তুলতে তারেক রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় এ ধরনের কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

মিলন আরও বলেন, জনগণের কাতারে থাকতে হলে জবাবদিহিতা অপরিহার্য, আর জবাবদিহিতার মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন ২০২০-২০৩০ এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ২৭ দফা ও পরবর্তীতে উন্নীত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে ঘুণে ধরা রাষ্ট্রকে সচল করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আলোকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার যৌক্তিকতা ভোটারদের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পবা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলামিনের সভাপতিত্বে ও মোহনপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামিম সরকারসহ কেন্দ্র ও জেলার একাধিক ছাত্রদল নেতা।

এসময় পবা, মোহনপুর, নওহাটা, কাটাখালি ও কেশরহাট পৌরসভাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।