
ঋণ খেলাপি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “আমরা ঋণ খেলাপি করে ব্যাংকের টাকা মেরে দিয়ে জনগণের সেবা করতে আসিনি। নিজের টাকা দেওয়ার মুরোদ নেই, আবার জনসেবা করতে আসে—এমন লোকদের সংসদে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার ইকরা নগরীতে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, দেশে এমন এমপি প্রার্থীও রয়েছে যারা ৫০০ কোটি থেকে শুরু করে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ খেলাপি। “এ ধরনের ঋণ খেলাপিদের একটি রাজনৈতিক দল মনোনয়ন দিয়েছে। আমরা এই ঋণ খেলাপিদের ঘুম হারাম করে ছাড়ব। যারা ব্যাংকের টাকা লুট করেছে, যারা চাঁদাবাজি করে রাজনীতি করে—তাদের সংসদে যাওয়ার অধিকার নেই,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত হই আর না হই—বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যারা প্রতারণা করেছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা বিদেশে পাচার করে পরিবার নিয়ে আরাম-আয়েশে থাকে, তাদের জীবনকে নরক বানিয়ে ছাড়ব। এ দেশের টাকা বিদেশে পাচারের কোনো সুযোগ আমরা দেব না।”
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে হাসনাত বলেন, “একজন চাঁদাবাজ হয়তো নির্বাচনের জন্য ১০ লাখ টাকা দিতে পারে। কিন্তু সেই টাকা নিয়ে যারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে, তাদের সঙ্গে বেঈমানি করার সুযোগ নেই। টাকা দরকার হলে জনগণের কাছেই যাব—ভিক্ষা চাইব। একজন চাঁদাবাজের কাছ থেকে ১০ লাখ নেওয়ার চেয়ে জনগণের কাছ থেকে চাইলে আরও বেশি পাওয়া সম্ভব।”
দেবিদ্বারের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের জেতানোর জন্য দেবিদ্বারের সাধারণ মানুষ এক হয়েছে। আর আমাদের হারানোর জন্য সব চাঁদাবাজ, মাটিখোর, বাজার থেকে টাকা তোলা সিন্ডিকেট এবং কিছু বিদেশি শক্তি এক হয়েছে। কিন্তু জনতা যদি এক হয়ে যায়, দুনিয়ার সব শক্তি মিলেও জনতাকে ঠেকাতে পারবে না।”
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “আমরা জনতার শক্তির ওপর ভর করে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেই সংসদে যাব, ইনশাআল্লাহ। হাদি ভাইয়ের যে অপূরণীয় স্বপ্ন ছিল—ঋণ খেলাপিদের সংসদে দৌড়ের ওপর রাখা—আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। তার হত্যার বিচার এই বাংলাদেশেই হবে। বিদেশি ও দেশীয় শক্তি মিলে যারা ভারতের গুন্ডামীর বিরুদ্ধে আমাদের আপসহীন কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছে, তাদের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।”
উঠান বৈঠকে প্রবাসী সাংবাদিক রস্তম খানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন, দেবিদ্বার পৌর জামায়াতের আমির মো. ফেরদাউস আহমেদ, পৌর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দুর্নীতি, ঋণ খেলাপি ও চাঁদাবাজমুক্ত রাজনীতির জন্য সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটের মাঠে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 






















