ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
মতবিনিময় সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ রুমিন ফারহানা ‘মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবেও এলাকা ছাড়ব না’- রুমিন ফারহানার স্পষ্ট বার্তা মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় হাইকমিশন–ইমিগ্রেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশের সম্ভাবনা ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে ঠেকাতে কঠোর অবস্থান এনসিপির কৃষিজমিতে অবৈধ মাটি কাটায় ১ লাখ টাকা জরিমানা চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরাপদ খাদ্যের অভিযান, পচা খেজুর মজুতে ১ লাখ টাকা জরিমানা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাসে ছিনতাই চেষ্টা, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-৩ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ কোটি টাকার হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ১ ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি-৭৯

মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় হাইকমিশন–ইমিগ্রেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সংগৃহীত ছবি।

মালদ্বীপে বসবাস ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ অংশ নেন। শনিবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুরক্ষা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল বৈঠকে মালদ্বীপের সাম্প্রতিক ডিজিটাল উদ্যোগ সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন ইতোমধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি জটিলতা থাকলেও দ্রুত তা সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে ভিসার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা ইস্যুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তরিত হবে। নতুন ভিসাধারীদের জন্য এই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে এলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে পড়ছেন। তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

এছাড়া ডলার সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় তুলে ধরেন হাইকমিশনার। প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আসা একাধিক অভিযোগ তিনি ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেন।

জবাবে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মালদ্বীপের ‘লেবার রিলেশন অথরিটি’ (এলআরএ)-তে অভিযোগ দাখিলের পরামর্শও দেন তিনি। উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, নতুন পাসপোর্টে কোনো তথ্য পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হবে। এছাড়া কোনো প্রবাসীকে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলেও জানানো হয়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

মতবিনিময় সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ রুমিন ফারহানা

মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় হাইকমিশন–ইমিগ্রেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:১৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

মালদ্বীপে বসবাস ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ অংশ নেন। শনিবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুরক্ষা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল বৈঠকে মালদ্বীপের সাম্প্রতিক ডিজিটাল উদ্যোগ সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন ইতোমধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি জটিলতা থাকলেও দ্রুত তা সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে ভিসার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা ইস্যুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তরিত হবে। নতুন ভিসাধারীদের জন্য এই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে এলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে পড়ছেন। তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

এছাড়া ডলার সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় তুলে ধরেন হাইকমিশনার। প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আসা একাধিক অভিযোগ তিনি ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেন।

জবাবে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মালদ্বীপের ‘লেবার রিলেশন অথরিটি’ (এলআরএ)-তে অভিযোগ দাখিলের পরামর্শও দেন তিনি। উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, নতুন পাসপোর্টে কোনো তথ্য পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হবে। এছাড়া কোনো প্রবাসীকে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলেও জানানো হয়।