ঢাকা ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

নারী অবমাননাকারীরা দেশ ও জনগণের কল্যাণ করতে পারে না: তারেক রহমান

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অসম্মান করে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ভাষায় কথা বলে, তারা কখনোই দেশপ্রেমিক বা জনকল্যাণে বিশ্বাসী হতে পারে না। তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—১৯৭১ সালে এই ধরনের গোষ্ঠীর ভূমিকার কারণেই লক্ষ লক্ষ মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী—এই বিশাল অংশকে যারা হেয় প্রতিপন্ন করে এবং অশালীন ভাষায় আক্রমণ করে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা রাখে না।

প্রতিপক্ষ দলের এক নেতার বিতর্কিত বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। তার ভাষায়, তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এখন তারা দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে, অথচ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ঠিক আগে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে একটি দলের সিনিয়র নেতা এভাবে অসত্য বক্তব্য দিচ্ছেন। যারা সহজেই মিথ্যা বলতে পারে, তারা কখনোই দেশের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।”

নারীদের গৃহবন্দি করে রাখার মানসিকতার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, যারা নারীদের বাইরে কাজ করতে বাধা দিতে চায়, তাদের নিজ দলের নারী কর্মীরাই তো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি নারী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের নেতারা কী ধরনের অরুচিকর ভাষা ব্যবহার করছেন, তা আপনারাই বিবেচনা করুন।”

তিনি বলেন, একটি দল ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বললেও তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করে না। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী নারী।” তিনি আরও বলেন, এই দলের পূর্বসূরীরা অতীতেও নারী সমাজের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করেছে, ফলে তাদের হাতে নারী ও সাধারণ মানুষ কখনোই নিরাপদ ছিল না।

বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। ভোটের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর জনগণের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমেই আপনারা আপনাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করবেন—ইনশাআল্লাহ।”

নারীবান্ধব কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার প্রসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে নিয়মিত রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

যশোর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, এখানকার ফুল চাষ আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল পুনরায় চালু করে আখচাষিদের উন্নয়ন এবং দেশকে চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে “করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানে জনসভা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

নারী অবমাননাকারীরা দেশ ও জনগণের কল্যাণ করতে পারে না: তারেক রহমান

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৩৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অসম্মান করে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ভাষায় কথা বলে, তারা কখনোই দেশপ্রেমিক বা জনকল্যাণে বিশ্বাসী হতে পারে না। তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—১৯৭১ সালে এই ধরনের গোষ্ঠীর ভূমিকার কারণেই লক্ষ লক্ষ মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী—এই বিশাল অংশকে যারা হেয় প্রতিপন্ন করে এবং অশালীন ভাষায় আক্রমণ করে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা রাখে না।

প্রতিপক্ষ দলের এক নেতার বিতর্কিত বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। তার ভাষায়, তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এখন তারা দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে, অথচ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ঠিক আগে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে একটি দলের সিনিয়র নেতা এভাবে অসত্য বক্তব্য দিচ্ছেন। যারা সহজেই মিথ্যা বলতে পারে, তারা কখনোই দেশের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।”

নারীদের গৃহবন্দি করে রাখার মানসিকতার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, যারা নারীদের বাইরে কাজ করতে বাধা দিতে চায়, তাদের নিজ দলের নারী কর্মীরাই তো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি নারী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের নেতারা কী ধরনের অরুচিকর ভাষা ব্যবহার করছেন, তা আপনারাই বিবেচনা করুন।”

তিনি বলেন, একটি দল ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বললেও তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করে না। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী নারী।” তিনি আরও বলেন, এই দলের পূর্বসূরীরা অতীতেও নারী সমাজের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করেছে, ফলে তাদের হাতে নারী ও সাধারণ মানুষ কখনোই নিরাপদ ছিল না।

বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। ভোটের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর জনগণের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমেই আপনারা আপনাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করবেন—ইনশাআল্লাহ।”

নারীবান্ধব কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার প্রসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে নিয়মিত রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

যশোর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, এখানকার ফুল চাষ আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল পুনরায় চালু করে আখচাষিদের উন্নয়ন এবং দেশকে চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে “করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানে জনসভা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।