
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত সর্বজনীন বদলি নীতিমালা প্রকাশ হলেও এখনো বদলি কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষকরা। নীতিমালা জারির পর থেকেই বদলি কার্যক্রম কবে শুরু হবে—এ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, চলমান নির্বাচনী কার্যক্রম ও মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচন পূর্ব সময়ে বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুত বদলি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে কর্তৃপক্ষের। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আগেই বদলি কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বদলি নীতিমালা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং বদলির জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরিতে টেলিটকের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। শূন্যপদের তথ্য সংক্রান্ত কিছু কার্যক্রম বাকি থাকলেও, সার্বিকভাবে বদলি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি এগিয়ে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বদলির সফটওয়্যার নিয়ে টেলিটকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। তবে নির্বাচনী দায়িত্বে শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা এবং মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে জটিলতার কারণে কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় নির্বাচন শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ২৭ জানুয়ারি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির নতুন নীতিমালা জারি করা হয়। এ নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকরা প্রথমে নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্যপদ না থাকলে, নিজ বিভাগের অন্য যেকোনো জেলায় শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
এই নীতিমালা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এর আগে শুধুমাত্র সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা বদলির সুবিধা পেতেন। বদলির সুযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি শিক্ষকরা নানা ভোগান্তির মুখে পড়েছিলেন।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। নীতিমালাটি “স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা–২০২৬” নামে অভিহিত হবে এবং জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে।
সাধারণ শর্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে প্রকাশ করবে। প্রকাশিত শূন্যপদের বিপরীতে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদান—এই পুরো প্রক্রিয়া সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 






















