ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

শাহবাগে হামলার পেছনে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ইনকিলাব মঞ্চের

ফাইল ছবি।

শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে আগামী ১২ তারিখ নির্ধারিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতিসংঘে চিঠি পাঠাতে হবে।

শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা জানান। জাবের বলেন, কেবল চিঠি পাঠানোই যথেষ্ট নয়, সেখানে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে যেসব বিষয় তুলে ধরা প্রয়োজন, সেগুলো সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাতে হবে, যাতে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্তের আওতায় ঘটনার সত্যতা নিরূপণ, দায়ী ব্যক্তি ও সহযোগী নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচন ঠেকাতেই তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং যারা তা বানচাল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সে কারণে আসন্ন জুলাই গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা।

ভিডিও বার্তায় জাবের দাবি করেন, তিনি নিজে ও তার আশপাশের একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। মাথা লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ, মারধর ও পুলিশের লাঠিচার্জে বহু নেতাকর্মী আহত হন। তার ভাষায়, হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এরপরও নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার যদি এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চ আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

এ ছাড়া জাবের বলেন, জুমা ও শান্তাকে রাস্তায় ফেলে মারধরের ঘটনা সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন ও সরকারকে নিতে হবে বলেও তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর একের পর এক সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, একটি পক্ষ সাধারণ মানুষের ভেতরে মিশে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহবাগে হামলার পেছনে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ইনকিলাব মঞ্চের

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে আগামী ১২ তারিখ নির্ধারিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতিসংঘে চিঠি পাঠাতে হবে।

শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা জানান। জাবের বলেন, কেবল চিঠি পাঠানোই যথেষ্ট নয়, সেখানে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে যেসব বিষয় তুলে ধরা প্রয়োজন, সেগুলো সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাতে হবে, যাতে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্তের আওতায় ঘটনার সত্যতা নিরূপণ, দায়ী ব্যক্তি ও সহযোগী নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচন ঠেকাতেই তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং যারা তা বানচাল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সে কারণে আসন্ন জুলাই গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা।

ভিডিও বার্তায় জাবের দাবি করেন, তিনি নিজে ও তার আশপাশের একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। মাথা লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ, মারধর ও পুলিশের লাঠিচার্জে বহু নেতাকর্মী আহত হন। তার ভাষায়, হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এরপরও নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার যদি এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চ আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

এ ছাড়া জাবের বলেন, জুমা ও শান্তাকে রাস্তায় ফেলে মারধরের ঘটনা সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন ও সরকারকে নিতে হবে বলেও তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর একের পর এক সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, একটি পক্ষ সাধারণ মানুষের ভেতরে মিশে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।