
ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে বিশেষ মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংসের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উপর রাজারামপুর, পাওয়ার হাউস, উপর রাজারামপুর গোরস্থান ও দুর্গাপুর মাদ্রাসা এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিম-০৪ অংশ নেয়। অভিযানে জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণের প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পৌরসভার অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম, ইউসুফ, ফয়সাল, মেহেদী, আরাফাত, আফজালসহ রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করা। একই সঙ্গে বাড়িঘর, গলি, খোলা জায়গা ও আশপাশের পরিবেশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়তে পারে। তাই বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, নির্মাণসামগ্রীর বিভিন্ন অংশসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
শুধু পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযান চলাকালে নাগরিকদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। অভিযানের ব্যানারে ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’—এমন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।

নাগরিকদের নিয়মিত বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি বাড়ির আঙিনা বা ছাদে জমে থাকা সামান্য পানিও এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা নিয়মিতভাবে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেও এর কার্যকারিতা বাড়াতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, দোকানপাটের আশপাশ ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
এ কারণে সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ ভালোভাবে পরিদর্শন করে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার পক্ষ থেকে নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ির ছাদ, বারান্দা, বাগান, ফুলের টব, পানির পাত্র এবং আশপাশের খোলা জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা ফেলে দেওয়া অথবা পাত্রটি এমনভাবে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সেখানে পানি জমতে না পারে।
একই সঙ্গে বাড়ির আশপাশে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, ক্যান, বোতল বা অন্য কোনো পাত্র পড়ে থাকলে সেগুলো সরিয়ে ফেলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন নয়, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জনসচেতনতা, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার এ ধরনের মাঠপর্যায়ের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে কোথাও দীর্ঘদিন পানি জমে থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বা মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল দেখা গেলে তা দ্রুত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধকে শুধু মৌসুমি কার্যক্রম হিসেবে না দেখে বছরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 



















