
কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতরে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটির মতে, বনাঞ্চলের ভেতর সড়ক নির্মাণ করা হলে পাহাড় ও গাছপালার ক্ষতির পাশাপাশি বন্য প্রাণীর আবাসস্থলও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘অপরিকল্পিত উন্নয়নে বিপন্ন কক্সবাজার: পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাপার পক্ষ থেকে বলা হয়, সংরক্ষিত বন ও পাহাড়ি এলাকার পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা না করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে। তাই মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতরে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়িতে চলমান সড়ক নির্মাণ বন্ধ, হাইকোর্টের ২২৬/২০১১ নম্বর মামলার রায় ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়েছে।
বালিয়াড়িতে নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে বাপা।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এ অবস্থায় উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পরিবেশ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, পাহাড়ি বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের ফলে গাছপালা ও পাহাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বন্য প্রাণীর আবাসস্থলও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বিস্তারের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল এমনিতেই নানা ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা না করে তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ সময় সোনাদিয়া দ্বীপের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বাপা। সংগঠনটির অভিযোগ, সেখানে প্যারাবন ক্ষতিগ্রস্ত করে চিংড়ি ঘের তৈরির কার্যক্রম চলছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি সোনাদিয়ার জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বাপার কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার আগে পরিবেশের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বালিয়াড়িকে উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির ও সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
অধিকার ডেস্কঃ 
























